রাত ১২:০০, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইফতারে অন্য দেশের মানুষ কি খান?

আজকের সারাদেশে প্রতিবেদন:

সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে যাত্রা করা ইসলাম এখন ছড়িয়েছে পুরো বিশ্বে। দুনিয়ার প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ এখন মুসলিম।  বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মৌলিক বিষয়গুলো এক হলেও ধর্মীয় নানা আচারে যোগ হয়েছে ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্যের কারণেই লেবাননের ইফতার আয়োজন মিলে না মালয়েশিয়ার সঙ্গে। কিংবা সৌদি আরবের ইফতার আয়োজনের চেয়ে ভিন্ন মালদ্বীপের ইফতার আয়োজন। আর বাংলাদেশের মানুষের ইফতারে তো ছোলা-পেঁয়াজি আর হরেক পদের তেলেভাজা খাবার ছাড়া চলেই না। অন্য দেশের মানুষেরা ইফতারে কি খান দেখে নেওয়া যাক তাহলে।

ভারত:

ভারতে ঐতিহ্যবাহী হায়দরাবাদ শহরে ইফতার শুরু হয় সুস্বাদু হালিম দিয়ে। অপর দিকে কেরালা ও তামিলনাডুর মুসলমানরা ইফতার করেন নমরু কাজি নামের এক ধরনের খাবার দিয়ে মাংস, সবজি ও পরিজ দিয়ে প্রস্তুত করতে হয় খাবারটি। সুস্বাদু করতে চুলায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখতে হয়। উত্তর ভারতে পথের খাবার খুবই জনপ্রিয়। ইফতারের সময় এসব দোকানে ভিড় লেগে যায়। নানা রকম খাবারের পাশাপাশি ফ্রুট সালাদ তো থাকেই। এ ছাড়া দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে ইফতারের শুরুতে থাকে খেজুর, তাজা ফল, ফলের রস। এরপর পাকোড়া, সামোসার মতো ভাজা খাবার। ভারতে মুসলমানদের একটি অংশ মসজিদেই ইফতার করেন।

মিশর:

মিসরীয়রা পরিবারের সবাই মিলে ইফতার করতে পছন্দ করেন। ইফতারের সময় জ্বালানো হয় রঙিন লণ্ঠন। রোকাক নামে একটা মচমচে ভাজা টোস্ট, যা তৈরি হয় মাংস দিয়ে, ইফতারিতে খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়া ‘ফুল মেদেমাস’ ও বাদামি রুটি খেয়ে থাকেন তাঁরা। ফুল মেদেমাস আসলে মটরশুঁটি, টমেটো ও বাদাম দিয়ে তৈরি একধরনের খাবার। এটি রান্না করা হয় অলিভ অয়েল দিয়ে। মিসরীয়দের ইফতারে হাসসহ নানা ধরনের মাংসের পদ থাকে।

মালয়েশিয়া:

ইফতারকে মালয়েশিয়ানরা বলেন ‘বারবুকা পুয়াসা’। খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করেন তাঁরা। বান্দুং ড্রিংক, আখের রস, সয়াবিন মিল্ক নামের রকমারি পানীয় থাকে। ভারী খাবারের মধ্যে থাকে চিকেন রাইস, নাসি লেমাক, লাকসা পড়াশোনার জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ছিলেন ঢাকার তরুণ মেহেদী হাসান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মেহেদী জানালেন, ইন্দোনেশিয়ার মানুষ ইফতারে ছোট সামুদ্রিক মাছ (আমাদের কাচকি মাছের মতো) ভেজে নেন। এরপর তা বাদাম দিয়ে পরিবেশন করেন। সঙ্গে বিন ও চিকেন দিয়ে করেন বারবিকিউ। ফ্রায়েড রাইস থাকে। শরবত আলাদা করে তেমন বানান না। বাজারে বিভিন্ন কোমলপানীয় কিংবা ডাবের পানি থাকে।

জর্ডান:

জর্ডানের মুসলমানদের ইফতার শুরু হয় দধি, স্যুপ ও জুস দিয়ে। তাঁদের প্রিয় একটি খাবারের নাম মানসাফ। ভেড়ার মাংস দিয়ে তৈরি খাবারটি পরিবেশন করা হয় অ্যারাবিক রুটি বা ভাত সহযোগে।

সৌদি আরব:

ইফতারে সৌদিরা ‘অ্যারাবিক কঞ্চি’ পান করেন। আর খেজুর তো থাকেই। স্যুপ, ভাজা অথবা বেক করা নানা রকম পুর ভরা পেন্থি খেয়ে থাকেন তাঁরা। আর সৌদির পূর্বাঞ্চলের লোকেরা ইফতারে সালুনা নামের একটি খাবার খান, যা মাংস ও সবজির ট্রু দিয়ে তৈরি। সৌদি আরবের তাবুক শহরে আড়াই দশক ধরে বাস করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নাসরুল জানালেন, সৌদিরা খেজুর ও ক্রিমজাতীয় খাবার খেয়ে নামাজ পড়তে যান। এরপর লেবন হালিব, যা আমাদের দেশের বিরিয়ানির মতো ও মিষ্টিজাতীয় খাবার হারিসা কোনাফা খেয়ে থাকেন।

ইরাক:

ইরাকে শুকনো অ্যাপ্লিকট ও তেঁতুল দিয়ে একধরনের শরবত বানানো হয়। ইফতারে সবার পছন্দ এই শরবত, যা দূর করে সারা দিনের তৃষ্ণা। ইফতারে ইরানের ঘরে ঘরে তৈরি হয় জাফরানের ঘ্রাণযুক্ত একধরনের হালুয়া। আর নামাজ শেষে তাঁরা খান স্যান্ডউইচ, মিষ্টি চা তাবরেজি চিজ। আশ রাসতেই নামের একটি ঘন সবজির স্যুপও সেখানে ইফতারের সময় আগ্রহ নিয়ে খাওয়া হয়।

মালদ্বীপ:

মালদ্বীপের মুসলমানরা ইফতারে গারুধিয়া নামের একটি খাবার খেয়ে থাকেন। এটা একটা মাছের পদ, যা পরিবেশন করা হয় ভাত, লেবু, মরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে। আরেকটি জনপ্রিয় খাবারের নাম কুলহি বোয়াকিবা। এটা একটা ঝাল ঝাল ফিশ কেক। আরেকটি খাবারের নাম থারিদ, যা বানানো হয় চাল ও গরু বা খাসির মাংস দিয়ে।

লেবানন:

লেবাননে ইফতারের সময় ঘোষণা করতে প্রতিদিনই কামান দাগা হয়। ইফতারে ফাত্তুশ সালাদ নামের জনপ্রিয় একটি খাবার তাঁদের পছন্দ। গাজর, টমেটোসহ সব রকমের মৌসুমি ফল দিয়ে খাবারটি তৈরি হয়। এর ওপরে আবার ছড়িয়ে দেওয়া হয় রুটির টুকরা।

ইন্দোনেশিয়া:

ইন্দোনেশিয়ার মানুষ ইফতারে ছোট সামুদ্রিক মাছ (আমাদের কাচকি মাছের মতো) ভেজে নেন। এরপর তা বাদাম দিয়ে পরিবেশন করেন। সঙ্গে বিন ও চিকেন দিয়ে করেন বারবিকিউ। ফ্রায়েড রাইস থাকে। শরবত আলাদা করে তেমন বানান না। বাজারে বিভিন্ন কোমলপানীয় কিংবা ডাবের পানি থাকে।