রাত ১:৩২, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উইকেট চিনতে ভুল করেছে দু দলই

নাজমুল আবেদিন ফাহিম

সবুজ উইকেট মানেই দ্রুতগতির বোলাররা অতিরিক্ত সুবিধা পাবে, ব্যপারটা যে অসলে তা নয় এটি নিশ্চয়ই মিরপুরের এই উইকেট দেখে সবাই অনুধাবন করতে পারছি। এই উইকেটের উপর যে সবুজ ঘাস আমরা দেখছি তার বয়স খুব বেশী হবার কথা নয়, হয়তো কয়েক মাস। নতুন বেড়ে উঠা ঘাসে সার দিয়ে এটিকে এমন একটা লুক দেয়া হয়েছে যা দেখে মনে হয় ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার সেই সব গ্রাসি উইকেটের মত যেখানে বল বাঁক তো খাবেই পাশাপাশি ব্যাটসম্যান কোনঠাসা হয়ে পড়বে ভীতিকর বাউন্সের ভয়ে।

বলা বাহুল্য, এমনটা ভেবেই আফগানিস্তানের অধিনায়ক টসে জিতে বিনা দ্বিধায় বাংলাদেশকে ব্যাটিং করতে পাঠায় এবং বাংলাদেশের অধিনায়কও টস পরবর্তি ইন্টারভিউতে স্বীকার করে নেয় যে তাদেরও আগ্রহ ছিল টসে জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিং এ পাঠানোর। দুই দলে পেস বোলারের আধিক্যের ব্যপারটিও একই বার্তা দেয়।

মূল কথা হচ্ছে উভয় দলই উইকেট চিনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং টসে হারাটা এক অর্থে বাংলাদেশের পক্ষেই গেছে। আর তাই, টসে হেরে বাংলাদেশের ইনিংসের সূচনা হবার আগেই একটা পোস্ট দিয়েছিলোম, “It was a good toss to lose”!

উইকেটের বাউন্স মূলত নির্ভর করে পিচের মাটি কতোটা আঠালো (clay content), সেটি কতোটা জমাট বাধার বৈশিষ্টপূর্ণ এবং তার পাশাপাশি উইকেটে বিদ্যমান ঘাসের শিকড় কতটা গভীর এবং বিস্তৃত, তার উপর। আর উইকেট প্রস্তুতির প্রক্রিয়ার ব্যাপারটিতো আছেই।

একটি আদর্শ উইকেটের ঘাসের শিকড় প্রায় ৪/৫ ইঞ্চি গভীর হয়ে থাকে এবং এই পর্যায়ে যেতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগে। অর্থাৎ একটি উইকেট নির্মাণ পরবর্তি বেশ কয়েক বছর পরিকল্পিত ভাবে ব্যবহারের পর উইকেটের সেই চরিত্রটি দৃশ্যমান হয়। এই শিকড় জালের মতো মাটির গভীরে বিস্তৃত হয়ে পুরো মাটির স্তর টি কে আকড়ে ধরে রাখে। এটি অনেকটা পিলার তৈরীতে সিমেন্টের ভেতর রডের ব্যবহারের মত। তার পাশাপাশি শিকড় বিরতিহীনভাবে মাটির গভীর থেকে পানি শোষন করে উইকেটের সার্বিক আদ্রতা রক্ষা করে এবং দীর্ঘসময় উইকেট টি যেন তার কাংক্ষিত চরিত্রটি বজায় রাখতে পারে তা নিশ্চিত করে।

মিরপুরের উইকেটের clay content বাউন্সি উইকেট তৈরীর উপযোগী কিনা সে ব্যাপার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষ হয়তো নিশ্চিত করতে পারবে। যদি ধরেও নেই এটির গুনগত মান ভালো তারপরও শিকড়ের প্রশ্নটি থেকেই যায়। উপরে দৃশ্যমান সবুজ ঘাস থাকলেও অগভীর শিকড়ের কারনেই জমাট বাধার প্রক্রিয়টি (compactness) ব্যাহত হয় এবং উইকেটের বাউন্স ও গতি কাক্ষিত পর্যায়ে নেয়া সম্ভব হয় না, হলেও তা ধরে রাখা যায় না।

একারনেই চলমান এই টেস্টের প্রথম সেশন থেকেই সেই অর্থে তেমন কোন threat এর মুখোমুখি হতে হয়নি ব্যাটসম্যানদের বরং উইকেটটি ছিল ব্যাটিং সহায়ক। দ্বিতীয় দিনও হয়তো তাই থাকবে, তবে আমার ধারনা তৃতীয় দিন আসতে আসতে এটি হয়তো স্পিন সহায়ক উইকেটে রুপান্তরিত হবে। ভাগ্যক্রমে এর সবই বাংলাদেশ দলের পক্ষে যাবে।

টসে জিতলে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতো। সেটি এই ম্যচের ফলাফলের ক্ষেত্রে কি ভুমিকা রাখতো তা হয়তো আমাদের অজানাই থেকে যাবে।

লেখক: নাজমুল আবেদিন ফাহিম
স্বনামধন্য ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক

আজকের সারাদেশ/১৫জুন/এসএম