সকাল ৭:২৪, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তামিমের শহরে ভক্তদের উল্লাস, আনন্দে কেঁদেছেন মা

এম. মোরশেদ, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ক্রিকেট আবেগের সবচেয়ে বড় ঠিকানা বলা খান পরিবারকে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পরিবারের প্রতিনিধিরাই গর্বিত করছে বন্দরনগরীকে, গোটা দেশকে। সেই পরিবারের তামিম ইকবাল খান অশ্রুনয়নে অবসর ঘোষণা দিতেই স্বাভাবিকভাবে মন খারাপের বিষণ্নতা ছুঁয়ে যায় শহরের বাসিন্দাদের মনে। সেই কান্না রং অবশেষে মুছে গেল। প্রধানমন্ত্রীর হহস্তক্ষেপে তামিম অবসর ভেঙে ফিরতেই মিছিল নেমেছে তার শহরের অলিগলিতে। ঘরের ছেলেকে আবার দেশের জার্সিতে দেখবেন-এর চেয়ে বড় আনন্দ যেন নেই তাদের জীবনে!

শুক্রবার, সময় তখন সন্ধ্যা ছয়টার আশপাশে। ঠিক তখনই তামিমের অবসর প্রত্যাহারের খবর গণভবন থেকে পৌঁছে চট্টগ্রামে। এরপরই শুরু হয় তামিমের বাড়িমুখী মিছিল, হাস্যোজ্জ্বল মুখে। শহরের কাজীর দেউরিতে তামিমের বাড়ির চারপাশ ঘিরে চলতে থাকে তামিম, তামিম স্লোগান। সেই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন বাংলাদেশ দলের আইকনিক সমর্থক টাইগার শোয়েব আলীও।

বাড়ি ফটকে দাড়িয়ে উৎসব করছিলেন আছেন তামিমের ভাই ক্রিকেটার নাফিস ইকবালের কিশোর বয়সী ছেলে নামির ইকবাল খান। জানতে চাইলে সে বলে, অনেক আনন্দ লাগছে এখন। গতকাল ঘোষনার পরে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। অনেক কষ্ট লেগেছিল। তবে আজ প্রধানমন্ত্রী বলার পর চাচ্চু ব্যাক করছেন। অনেক খুশি লাগছে।

এদিকে তামিম ফেরার খবর শুনে তাঁর মা আনন্দে কেঁদেছেন বলে জানিয়ে চাচাতো ভাই আবিয়াস খান বলেন, আমরা গতকাল শোনার পরে এটি মেনে নিতে পারিনি। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি আমরা পরিবার লোকেরাও জানতাম না। তবে আজ ক্রিকেটে ফেরার কথা শুনে বাসার সবাই আনন্দিত। যেমন ভাইয়ার মা এত খুশি হয়েছেন যে, আনন্দে কেঁদে ফেলেছেন। তিনিও আশা করছেন তামিম বিশ্বকাপ খেলবেন।

স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলেন ভক্ত-সমর্থকরা। আশপাশের বাসা থেকে ছুঁটে আসেন তামিমের পরিবারের সদস্যরাও। এসময় উপস্থিত ভক্ত-সমর্থকদের থেকে ‘এই মুহূর্তে খবর এল, তামিম ভাই ফিরে এল’, ‘চ্যাম্পিয়ন তামিম ভাই’, নানা ধরনের স্লোগান দেন। একই সঙ্গে তমিমের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায় সমর্থকদের।

যে টাইগার শোয়েব আলী তামিমের অবসর ঘোষনায় বৃষ্টিতে রাস্তায় হাত ঝাপটিয়ে আর্তনাদ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তামিম ইকবাল খান দলে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি এদেশের লক্ষ, কোটি ক্রিকেট ভক্তের অনুরোধ রেখেছেন।’ সব দরজা যখন বন্ধ হয়ে গেছিল, সবাই যথখন তামিম খানের বিদায় মেনে নিয়েছিল ঠিক তখন প্রধানমন্ত্রী তামিম ভাইকে ডেকে তামিম ভাইকে ফিরিয়ে আনলেন। আমরা চাই তামিম ভাই বীরের মত রাজকীয়ভাবে বিদায় নেবেন। এভাবে কান্না করে নয়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আর মাশরাফি ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

টাইগার বয় নামের এক ভক্ত বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল তামিম ভাই ফিরবেন। মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রীর কথা রাখবেন। তাই করেছেন তিনি। তামিম ভাইয়ের ক্রিকেটে ফেরায় আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা চাই তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক এবং ভালো কিছু করুক। তামিম ভাইকে মাঠে আবার দেখতে পাবো এর থেকে খুশির খবর এই মুহূর্তে আর কিছুই নেই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান এই টাইগার বয়।

এর আগে আজ জুম্মার নামাজের পর থেকে তামিমের ফিরে আসার দাবিতে দলে দলে সমর্থকরা মানববন্ধন শুরু করেন কাজির দেউড়ি এলাকায়। একপর্যায়ে তারা তামিমের বাসার সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তামিম গণভবন থেকে বেরিয়ে অবসর ভেঙে ক্রিকেটে ফিরে আসার কথা জানালে ভক্ত-সমর্থকরা বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষতের পর গণমাধ্যমকে তামিম ইকবাল বলেন, আজ দুপুর বেলায় আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বাসায় দাওয়াত করেছিলেন। উনার সঙ্গে অনেকক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি। উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন খেলায় ফিরে আসতে। আমি আমার রিটয়ারমেন্ট এই মুহূর্তে তুলে নিচ্ছি। কারণ আমি সবাইকে না বলতে পারি কিন্তু দেশের যে সবচেয়ে বড় ব্যক্তি তাকে না বলা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাতে অবশ্যই পাপন ভাই ও মাশরাফি ভাইয়ের বড় ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, মাশরাফি ভাই আমাকে ডেকে নিয়েছেন। পাপন ভাই সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেড়মাসের জন্য একটা ছুটিও দিয়েছেন। আমি যেন মানসিকভাবে আরেকটু ফ্রি হতে পারি।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ করেই এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম ইকবাল। তখন থেকেই আবারও ক্রিকেটে ফিরে আসার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তামিমের ভক্ত-সমর্থকরা।

আজকের সারাদেশ/৭জুলাই/এসএম