সকাল ৬:৩০, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মহসিন কলেজে স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ করলেই ‘শাস্তি’

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:
বই নয়, শ্রেণিকক্ষে অনেকের নজর পড়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিনে। আবার অনেকে হলের বাইরে ব্যাগে মোবাইল ফোন রেখে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হারহামেশাই হারাচ্ছেন ফোন। বারবার এমন ঘটনা ঘটায় এবার কলেজ ক্যাম্পাসে অ্যানড্রয়েড ফোন নিয়ে আসার ওপরেই রাশ টেনেছে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অ্যাকাডেমিক কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি অনুমোদন পায়।
 
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছের সই করা এই বিজ্ঞপ্তিটি আবার দেয়া হয়েছে কলেজের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে। যা দেখতে আবার স্মার্টফোন লাগছেই! বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চলাকালীন মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার নির্দেশনার পাশাপাশি চুরি ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া যায়, কিন্তু সেটি না করে স্মার্টফোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া তো ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-কলেজের অধ্যায়নরত বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অবগত করা যাচ্ছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে, চট্টগ্রামের নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষেধ।’ এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশও দেয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

জানতে চাইলে অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন আসক্তিতে পড়ালেখার ক্ষতির পাশাপাশি খারাপ কিছু দেখে বেপথু হওয়ার প্রবণতা তো আছেই। আবার পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই হলের বাইরে ব্যাগে ফোনটি রেখে প্রবেশ করেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে-প্রায় সময়ই তাঁদের ফোন চুরি হয়ে যাচ্ছে। বারবার ফোন হারানোর বিষয়ে আমাদের কাছে বিচার-অভিযোগ আসতেছে। সেজন্য আমরা অ্যানড্রয়েড ফোন নিষিদ্ধ করেছি। তবে বাটন ফোন নিয়ে আসতে কোনো বাধা নেই।’

অবশ্য এই কলেজে স্মার্টফোন নিষিদ্ধের বিষয়টি নতুন নয়। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবরও কলেজ ক্যাম্পাসে স্মার্টফোন ব্যবহার ও বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তখন শুধু একাদশ ও দ্বাদশ শ্রণির শিক্ষার্থীদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই বাস্তবায়ন করা যায়নি।

এখন কীভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন এমন প্রশ্নে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘কলেজে শৃঙ্খলা কমিটি আছে। তারা শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন পাওয়া যায় তবে তারা ব্যবস্থা নেবে।’

শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া:
ঐতিহ্যবাহী এই কলেজে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়ছেন। গতকাল দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পরস্পর আলাপ করছিলেন।

তিনজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, পড়ালেখার বিষয়ে কোনো কিছু জানার দরকার পড়লে-তাৎক্ষণিকভাবে গুগলে ঘেঁটে উত্তর বের করা যেত। কিন্তু এখন আর সেটি সম্ভব হবে না।

আরেকজন বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে যারা পড়ছেন সবাই ম্যাচুয়েরড। তাঁরা তাঁদের ভালো-মন্দ বোঝেন। স্মার্টফোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপটা তাই কলেক কর্তৃপক্ষের বাড়াবাড়ি।’

মোবাইল চুরিরোধেও শিক্ষার্থীদের পরামর্শ আছে। তাঁরা বলেন, সিসি ক্যামরা আছে এমন একটা কক্ষ নির্ধারণ করে দেয়া যায়। যেখানে পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোন রাখবেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেটি না করে একেবারে স্মার্টফোন আনতে নিষেধ করে দেয়া মানে দায়িত্ব এড়ানো।’

আজকের সারাদেশ/১০জুলাই/এইচটি/এসএম