সকাল ৬:৩১, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চবির মাত্র একজন, এ যেন ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

৩০১ জনের ঢাউস কমিটি। কিন্তু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সেই কমিটিতেও কিনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার ১ জনের বেশি নেতার জায়গা হলো না। যে একটি পদ দেয়া হয়েছে তাও একেবারে নিচের সারির পদ। এ যেন সান্ত্বনা পুরস্কার!

চবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখাকে এভাবে অবমূল্যায়ন করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাঁরা বলছেন এভাবে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিতে থাকলে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ত্যাগী নেতারা সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

সদ্যঘোষিত ৩০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-গণশিক্ষা পদে রাখা হয়েছে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নূর-উন-নবী প্রিন্সকে। বাকি পদগুলোতে বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিক্য।

তবে চবিকে এভাবে অবমূল্যায়ন করার পেছনে একটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন নেতা-কর্মীরা। মূলত ছাত্রলীগের চবি ইউনিটটির কার্যক্রম চট্টগ্রাম নগর কেন্দ্রিক। বহুবছর ধরে এই শাখার নাটাই দুই শীর্ষ নেতার হাতে। ফলে এই শাখার ওপর তেমন একটা কর্তৃত্ব ফলাতে পারে না সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। এই ‘ক্ষোভ’ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি চবি শাখাকে নিয়ে একচোখা নীতি অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা তাঁদের। অন্যান্য জেলায়ও নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের অধীনে রাজনীতি করেন। সে কারণে ঢাকার বাইরের নেতাকর্মীরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা আজকের সারাদেশকে বলেন, যারা সবসময় কেন্দ্রের চোখের সামনে থাকে, তারাই কমিটিতে স্থান পান। অথচ, যারা ঢাকার বাইরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয় না। এ যেন ‘চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল’।

শুধু তিনিই নন, তার মতো আরও অনেকেরই অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপেক্ষা করা হয়েছে চবি ছাত্রলীগকে। বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা করেছেন চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। 

হতাশা প্রকাশ করে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীমা সীমা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আর নয় সময় উদ্দেশ্যহীন মিছিলে।’ সেই পোস্টের নিচে, অসংখ্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন।

শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শরীফ উদ্দিন আজকের সারাদেশকে বলেন, আগামী বছর নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করছে চবি ছাত্রলীগ। দেশের ক্রান্তিলগ্নেও সকল আন্দোলন মিছিল সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে এই শাখা। কিন্তু কেন্দ্রে বরাবরের মতো এবারও অবমূল্যায়ন করেছে ছাত্রলীগের এই শাখা ইউনিটকে।

শাখা ছাত্রলীগের আরেক সহসভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় আজকের সারাদেশকে বলেন, চবি ছাত্রলীগ একটি ক্রিটিকাল ইউনিট। এখানকার নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ সময় শিবিরের সঙ্গে লড়াই-সংগ্রাম করে ছাত্রলীগের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছে। অনেক নেতা-কর্মী শিবিরের হাতে জীবন পর্যন্ত দিয়েছে। বরণ করেছে পঙ্গুত্ব। চবি ছাত্রলীগ থেকে যদি কমপক্ষে ৮-১০ জনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হতো, তাহলে ভালো হতো।

প্রায় একই কথা বলেছেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রকিবুল হাসান দিনারও। তবে মূল্যায়ন না করার পেছনে নিজেদেরও দোষ দেখছেন এই নেতা। তিনি আজকের সারাদেশকে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বরাবরই পিছিয়ে চবি ছাত্রলীগ। তবে বর্তমান সময়ে অবমূল্যায়নে আমরা নিজেরাও দায়ী। চবি ছাত্রলীগ সভাপতির একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, সারাবছর নানা ঝামেলায় সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনাম হয়ে থাকা কেন্দ্রের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-গণশিক্ষা পদ পাওয়া শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নূর-উন-নবী প্রিন্সও মনে করেন আরও বেশি নেতাকে মূল্যায়ন করা হলে ভালো হতো। তিনি আজকের সারাদেশকে তিনি বলেন, আগে প্রায় প্রতি কমিটিতে চবির ৬/৭ জনকে কেন্দ্র থেকে মূল্যায়ন করা হতো। এখন হচ্ছে না। চবির মতো এরকম একটা ইউনিট থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও বেশি নেতা-কর্মীর স্থান পাওয়া উচিত বলে মনে করি।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু আজকের সারাদেশকে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে কেউ জায়গা করে নিতে পারেনি এটা সত্য না। একজনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রেখেছেন। তবে, চবি থেকে আরো নেতা-কর্মী কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকলে ভালো লাগতো।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল আজকের সারাদেশকে বলেন, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে লড়াই করে যে ছাত্রলীগ তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে, তাদের থেকে অন্তত ৭-৮ জন কেন্দ্রে রাখা উচিত ছিল। এখান থেকেও জাতীয় নেতৃত্ব গড়ে উঠা দরকার। কিন্তু এ ইউনিট  উপেক্ষিত।