ভোর ৫:৪২, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২০০১-০৬ সাল বিএনপি নিজেদের কবর নিজেরা করেছিল: কৃষিমন্ত্রী

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

বিএনপি ২০০১-২০০৬ সালে নিজেদের কবর নিজেরা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অতীতে অনেক আন্দোলন করেছেন। এখন ভয় দেখাচ্ছে হরতাল করবে। আবার দেশকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা তখনই বলেছিলাম- ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন করে তারেক জিয়ারা (বিএনপি) নিজেদের কবর নিজেরা করেছিল। সেই কবর থেকে উঠার অবস্থা এখন আর তাদের নাই। আমি মনে করি না আর উঠে আসতে পারবে।

সোমবার (১৭ জুলাই) সকালে রাউজান কালেজ মাঠে পরিবেশ রক্ষায় ৫ লাখ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের বিরোধী দল। ২০০৮ সালে খুবই সুন্দর একটা নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনের ফলাফলকে তারা গ্রহণ করেনি। তখন থেকে শুরু করে খালি সমালোচনায় করে যাচ্ছি। সে নির্বাচনে কি সুষ্ঠু হয় না। এখন তারা কোরাছ খাইতেছে ১২ বছর যাবত। আমরা দেখছি ১৩-১৪ সালে কি সন্ত্রাস তারা করেছে। বাংলাদেশকে দেশকে কিভাবে সন্ত্রাসের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
হরতাল অবরোধের নামে গাড়ি ভেঙ্গেছে বাড়ি ভেঙেছে। পুলিশের মাথা থেতলিয়ে দিয়েছে, পুলিশকে হত্যা করেছে। রেললাইন তুলে ফেলেছে, বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে। স্কুল-কলেজে আগুন দিয়েছে।

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৫ সালে হরতাল অবরোধের নামে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির অফিসে আশ্রয় নিয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত, দেশ ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি ঘরে ফিরবেন না। ৯০ দিন একটানা হরতাল করেছে। তারপর ব্যর্থতার কালিমা নিয়ে গুলশানের বাড়িতে গিয়েছে। এখনো বলছে সরকারের অধীনে নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। আমাদের সংবিধানের সুস্পষ্ট লেখা রয়েছে- যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে তাদেরই আওতায় নির্বাচন হবে। এই সংবিধান পবিত্র সংবিধান। তার ব্যর্থয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু তারা সেটি মানবে না।

তিনি আরও বলেন, যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী,  প্রশাসন  খুবই সংগঠিত। তারা সুশৃংখল। বিএনপি কোন ধরনের অরাজকতা নৈরাজ্য করতে চাইলে তারা সেটি মোকাবেলা করবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা প্রস্তুত থাকবেন। সকল প্রকার সহযোগিতা আমাদের প্রশাসনকে দিতে হবে। যে কোন মূল্যে বিএনপির সন্ত্রাসকে আমরা মোকাবেলা করব। এবং এদেশে একটা সুস্থ সুন্দর নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের কাজ হলো তাদেরকে সহযোগিতা করা। আমাদের এমপি মন্ত্রী সকলের দায়িত্ব হবে সরকারকে সহযোগিতা করা। ইনশাল্লাহ আমরা সেটা করবই। এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সুন্দরভাবে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা কর্মীরা সুশৃংখল ও সুসংগঠিত। আমরা এটি মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কোন শক্তি নাই যে নির্বাচনকে বানচাল করবার। বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে। তারা আগে দিয়েছে সামনেও দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, সে দ্বারা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। রাস্তাঘাট, পাকা রাস্তা, বিদ্যুতের লাইন সব মিলিয়ে দেশ একটা নতুন যুগে পা দিয়েছে। এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমি মনে করি সেদিকে আমরা সফল হব।

এসময় তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই পৃথিবী আপনাদের জন্য। আগামী প্রজন্মের জন্য। সুন্দর পৃথিবী করে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, রাউজান উপজেলার মধ্যে রাউজানের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একবার রাউজানে নিয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী রাউজানের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও ব্যাপক উন্নয়ন দেখে অভিভুত হবেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বশর মোহাম্মদ ফখরুজ্জমানের সভাপতিত্বে ও রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুস সামাদ শিকদারের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত ৫ লাখ গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্ঞান জ্যোতি হত্যাকাণ্ডের পর মাননীয় মন্ত্রী রাউজান এসেছিলেন। আজ ২০ বছর পর এসেছেন। আমরা ৫১ রকমের পাঁচ লাখ চারা লাগাব। বেশিরভাগ ফলের চারা। আমরা যা করবো তা আরেকজন ফলো করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, রাউজান পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আবদুল ওহাব ।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চারা বিতরণ কর্মসুচী অনুষ্ঠানের পুর্বে কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পরে রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং সেখানে গাছের চারা রোপণ করেন।

এদিন কাঁঠাল, চালতা, আম, নারিকেল, বাতাবি লেবু, আমড়া, জামরুল, হরীতকী, বহেড়া, গাব, লটকন, আমলকী, কাঠবাদাম, মিষ্টি তেঁতুল, আতাসহ প্রায় ৫১ প্রজাতির ৫ লাখ চারা রোপনের উদ্দেশ্যে বিতরণ করা হয়।

আজকের সারাদেশ/১৭জুলাই/এসএম