সকাল ৬:২৮, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরের ৪ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পিরোজপুরের চার যুদ্ধপরাধীকে ফাঁসির আদেশে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহীনুর ইসলামসহ তিন বিচারপতি এই রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ওরফে আব্দুল মান্নান ডিলার ওরফে মান্নান, ৬৭ বছর বয়সী আশ্রাব আলী ওরফে আশরাফ আলী হাওলাদার, ৬৮ বছর বয়সী মহারাজ হাওলাদার ওরফে হাতকাটা মহারাজ ও নুরুল আমীন হাওলাদার।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম।

এ মামলায় তদন্ত সম্পন্ন করে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।

২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল তদন্ত শুরু করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা বদরুল আলম এ তদন্ত শুরু করেন। এরপর ৬ নভেম্বর এ মামলার তদন্ত শেষ হয়। তদন্ত শেষে এ মামলায় ৩৩ জনকে সাক্ষী করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার মোট চারটি অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৪ জুন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানার ৩ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের পূর্ব পশারিবুনিয়া গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আসামিরা হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ নিরস্ত্র মুকুন্দু বিহারি মল্লিক ওরফে ধুলাইড্যা, চিত্তরঞ্জন ব্যাপারী, সতিশ চন্দ্র ব্যাপারী, শরৎ চন্দ্র মাঝি, রসিক ঘরামী, উপেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি ও অনন্ত চাষিকে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণপূর্বক গুলি চালিয়ে হত্যা করে এবং আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করে অগ্নিসংযোগে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমর্থক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হিন্দু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার লক্ষ্যে চরখালী গ্রামে হামলা চালিয়ে অমূল্য রতন হাওলাদারের বাড়ি থেকে স্বর্ণ, গহনা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে। একইসঙ্গে রতন হাওলাদারকে আটক করে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ ছাড়াও সুরেন হাওলাদারের বাড়িতে লুটপাট ও তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে।

তৃতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চরখালী গ্রামে মনোরঞ্জন মিস্ত্রির বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার বড় ভাই চন্দ্রকান্ত মিস্ত্রিকে অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন ও অপহরণপূর্বক হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার সময় ২০০ টাকার বিনিময়ে আসামিদের কাছ থেকে মুক্তি পান।

আর চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৭ অক্টোবর সশস্ত্র রাজাকারসহ পিরোজপুর সদরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে তৎকালীন স্থাপিত আর্মি ক্যাম্পে স্থানীয় হিন্দুদের ধ্বংস করার লক্ষ্যে হিন্দু প্রধান এলাকা ভাণ্ডারিয়া থানার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সত্যরঞ্জন হালদারসহ ১৭ জনকে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করে। এরমধ্যে গুনমনি মিস্ত্রি নামে একজনকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে হত্যা করে। আসামিদের গুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়। পরে এরমধ্যে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আজকের সারাদেশ/২০জুলাই/এএইচ