ভোর ৫:৪০, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবশেষে চবিতে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে তরিকুলের, দায়িত্ব নিলেন বাচ্চু

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

ছোটো বেলায় মা মারা যাওয়ার পর বাবাও ছেড়ে চলে যান। এরপর এতিমখানায় খেয়ে না খেয়ে বড় হওয়া। মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে কলেজে ভর্তি হলেও দুঃখ কমেনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে নেমে পড়েন দিনমজুরের কাজ। কিন্তু কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি তারিকুল ইসলামকে। বাঁধার পাহাড় ডিঙিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন এই তরুণ। কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় না হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার সব স্বপ্নই যেনে ভেস্তে যাচ্ছিল তাঁর।

অদম্য তরিকুলের সেই কষ্টের কথা ছুঁয়ে গেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুকে। মানবিক এই সাবেক ছাত্রনেতা তরিকুলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তরিকুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা তো করবেনই, সঙ্গে সামনের দিনগুলোতেও এই তরুণের পাশে থাকবেন তিনি।

আরশেদুল আলম বাচ্চু বলেন, ওই শিক্ষার্থীর চবিতে ভর্তি হতে যত টাকা প্রয়োজন তা আমি বহন করব। পাশাপাশি ভর্তি হওয়ার পর তারিকুল ইসলামের যত সাহায্য দরকার তাও বহন করবো। টাকার অভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারবে না, তা হয় না। নিজের যতটুকু সাধ্য আছে, তা দিয়ে ওর পড়াশোনার খরচ চালানোর চেষ্টা করব।

এর মধ্যে দিয়ে তরিকুলের সব দুশ্চিন্তা যেন দূর হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাচ্চু ভাইয়ের এমন সহায়তার জন্য উনাকে ধন্যবাদ। সবসময় ঋণী হয়ে থাকব উনার কাছে। গণমাধ্যমকেও ধন্যবাদ আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

তারিকুল চবির ডি-ইউনিটে ৪৩ তম এবং বি-ইউনিটে হয়েছেন ৩৬ তম হয়েছেন। তার বাড়ি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার মডেল টাউন গ্রামে। স্থানীয় বাঘাইছড়ি বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসার হোস্টেলে বড় হন তিনি। দিনমজুরের কাজ করে এ মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন ২০২০ সালে, মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৩৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। সেখানে আলিম মাদ্রাসা না থাকায় স্থানীয় কাচালং সরকারি কলেজ থেকে ২০২২ সালে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে পাশ করেন তিনি।

এদিকে চবির ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া তারিকুলের গত ২০ জুন ছিল ভর্তি ফি জমা দেওয়ার শেষ দিন। ভর্তির জন্য ৮ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও ২০ জুন পর্যন্ত তারিকুল সর্বসাকুল্যে জোগাড় করতে পেরেছেন মাত্র দেড় হাজার টাকা। এর মধ্যে যাতায়াত খরচই যাবে প্রায় ১ হাজার। তাই তিনি আর ভর্তি হতেই আসেননি। এখন অবশ্য আরশেদুল আলম বাচ্চুকে পাশে পাওয়ায় তরিকুলের উচ্চ শিক্ষার পথটাও হলো মসৃণ।

আজকের সারাদেশ/২২ জুলাই ২০২৩/জেএম