রাত ৩:০৩, বৃহস্পতিবার, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ‘ঝুকিপূর্ণ’ বলে কাটা হচ্ছে ১২৯ স্বাভাবিক গাছ

আজকের সারাদেশ ডেস্ক:

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুকিপূর্ণ হওয়ার কথা জানিয়ে ১২৯ টি অক্ষত ও স্বাভাবিক গাছ কাটা হচ্ছে বরিশালে। সম্প্রতি ঠিকাদারের কাছ থেকে দরপত্র গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খুব শিগগিরই গাছগুলোকে কেটে ফেলা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাগরদী কলোনি ও চাঁদমারী ভিআইপি কলোনিতে থাকা ১২৯টি গাছ নিলামে বিক্রির জন্য গত ২২ জুন নিলাম দরপত্র আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিলাম দরপত্র গ্রহণও করেছে পাউবোর পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ। ৪০টির ওপর দরপত্র বিক্রি করা হলেও নিলামে অংশগ্রহণ করেছে চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে আরিফ নামের এক ব্যক্তি নির্ধারিত ১৭ লাখ টাকার অনুকূলে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্য হাঁকিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এগিয়ে আছেন।

পাউবোর নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ কর্তন বা অপসারণে নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিলামে দুটি লটে ১২৯টি গাছ বিক্রি করা হবে।’ নিলাম দরপত্রে এমনটি দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

পাউবোর কর্মচারী ও দুটি কলোনিতে বসবাসকারীদের অভিযোগ, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গাছ দেখিয়ে ১২৯টি গাছ বিক্রি করছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা গাছগুলো স্বাধীনতার আগে লাগানো। এ গাছগুলো দুটি কলোনিকে ছায়া দিচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। এখন গাছগুলো কেটে ফেললে দুটি কলোনিই জলাভূমিতে পরিণত হবে। সেখানে নতুন করে একশ গাছ লাগালেও একটি গাছের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না।’

সরজমিনে দেখা গেছে, পাউবোর পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরসংলগ্ন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের পেছনে দুই-তিনটি গাছ বন্যায় ভেঙে ও হেলে পড়েছে। তবে নিলামে বিক্রির জন্য রঙ দিয়ে নম্বর লিখে চিহ্নিত করা গাছগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের অন্যতম সংগঠক রফিকুল আলম বলেন, ‘চাইলেই গাছ কাটার সুযোগ নেই। তার ওপর সেটা যদি হয় সরকারি সম্পদ। তবে কোনো গাছ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা মরে যাওয়ার উপক্রম ঘটেছে সেক্ষেত্রে শুধু ওই গাছগুলোই কাটা যেতে পারে। এর বাইরে কোনোভাবেই গাছ কাটা যাবে না।’

বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসাইন বলেন, ‘যে গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত। মানুষের মতো গাছেরও বেঁচে থাকার একটি নির্ধারিত সময় আছে। যেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো বয়স্ক। এখন মরে যাচ্ছে। তাছাড়া অনেক গাছের ডালপালা ঝড়ে ভেঙে গেছে। এজন্য সেগুলোও বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বন বিভাগের অনুমতি রয়েছে। বন বিভাগ আমাদের শর্ত দিয়েছে একটি গাছ কাটলে দুটি লাগাতে হবে। আমরা সেই শর্ত মেনেই বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি।’

আজকের সারাদেশ/২২জুলাই/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম

‘জীবন বাজি রেখে রাজপথে যথেষ্ট ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা হাসানুল করিম মানিক’

তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনের মালিক রাশিয়া

এভারকেয়ার হসপিটাল শিশু হৃদরোগ বিভাগের আয়োজনে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

২ লিটারের বেশি পানি না নিতে নোটিশ দিল চবির শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট