সকাল ৭:০৪, শুক্রবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘আপনারও অধিকার নাই আমাকে অপমান করার’ প্রধানমন্ত্রীকে ভান্ডারী

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:
একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসা মহাজোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী আবারও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রীরও তাকে অপমান করার অধিকার নেই।

দেশের প্রাচীনতম রাজৗনতিক দল আওয়ামী লীগের মধ্যে এক একটা হায়েনা ও শকুনের দল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের নির্বাচনী আসন  ফটিকছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘গত ১৯ ‍জুলাই রাত্র পৌনে ১২ টায় যখন আমি বেরিয়ে আসি গণভবন থেকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দাড়িয়ে সামরিক সচিব এবং এসএসএফের চীফ (প্রধান) জেনারেল কবির এবং মেজর জেনারেলের সামনে দাড়িয়ে বলেছি, ‘আপা, আগে অনেক সহ্য করেছি এবার কিন্তু সবাই সবকিছু চাইবে আপত্তি নেই, কিন্তু কোনো ধরণের অপমান সহ্য করব না। এবং আপনি প্রধানমন্ত্রী ,আপনাকে আমি সম্মান করি। আপনারও অধিকার নাই আমি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে অপমান করার। ভালো না লাগলে বলবেন, এই মুহূর্তে রিজাইন করে চলে যাব। তবে রিজাইন করলে ঠিক থাকবেন কিনা সেটা চিন্তা করে দেখেন। এত সস্তা না দুনিয়াদারী। এত সস্তা হলে তো বহুত কিছু হইত।’

‘নজিবুল বশর তারা বাইয়েরে ন আইয়্যিত কনোমিক্কাত্তুন (নজিবুল বশররা কোথাও থেকে ভেসে আসেনি)। সাগরত বাইয়িরে আইস্সে যে না কচুরিপনা? এত হস্তা নয়ত।’

তাঁর দাবি আওয়ামী লীগে একটা শকুনের দল আছে, তারাও জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের চেষ্টা করেছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশ একটা ক্লান্তিলগ্নে অবস্থান করছে। শকুনের দল একদিকে তাকিয়ে আছে। জামায়াত শিবির বিএনপি সহ আরেক শকুনের দল হায়েনার দল আওয়ামী লীগের মধ্যেই আছে। এই …..বাচ্চারা জামায়াতের সাথে হাত মিলাতে চেয়েছিল। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী দেয় নাই। গালি দিয়ে বললাম, নামও বলতে পারি, নাম বলব না। কোনো উপায় না দেখে ভারতের সহযোগীতা আমি নিয়েছি। এবং ইন্ডিয়ার সরকার স্পষ্ট বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে, ‘নো জামায়াত’। জামায়াতকে নিয়ে কোনো খেলা সরকার খেলতে পারবে না।’

কোনো জঙ্গীকে প্রশ্রয় দেওয়া জামায়াতকে নিয়ে কোনো খেলা হবে না। আমি দায়-দায়িত্ব নিয়ে বলতেছি, আমি করেছি। সেই ক্ষমতা এবং হেডাম আছে বলেই করেছি। কেইসও করেছি ওদের বিরুদ্ধে। আজকের আওয়ামী লীগ অনেক সুফল পাচ্ছে। একটা সুফল- জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীই করেছে। দাবী কার? এটার সুফল কে ভোগ করতেছে? আওয়ামী লীগ। আমরা নির্বাচন করব, এবং ১৪ দলের জোটের ব্যানারেই নির্বাচন হবে। আর যদি তাদের কিছু লোক বাড়াতে হয়, অর্থাৎ কিছু সিট যদি বাড়াতে হয়, আমরাও চাই নিবন্ধিত দল যারা আছে তারা আসুক।

যেমন কালকে দেখেছি, আমার এখানে সুপ্রীম পার্টি- আমার ভাইপুত। সাইফুদ্দিন ইতে আঁর পোয়া। ও এখানে প্রোগ্রাম করেছে, আমি খুশি মনে স্বাগত জানাই তাকে। কারন যতবেশি ইলেকশনে আসবে তত সরকারের জন্য লাভ। আর আঁল্লাই (আমার জন্য) তো বেশি লাভ, ফটিকছড়ি থেকে দাড়ালে। আমি নৌকা নিয়ে দাড়াব।

আমলাদের সমালোচনা করে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জঠিলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ,পাশ কাটিয়ে কিছু করা সম্ভব না। এরা  অনেক বেশি শক্তিশালী। আমি কথা বলতেছি তো? আমি এখান থেকে গিয়ে সবার আগে মুখ্য সচিবের সাথে আমিই দেখা করব। কেন? আমার লাইন ঠিক রাখতে হবে তো! আমার কাজ-কর্ম করতে হবে। মন্ত্রী সাইন করলেও কাজ হয় না আজকাল। আমার যেতে হয় প্রশাসনের ওই স্তরের মধ্যে। এটা বাস্তব সত্য। এই জিনিসগুলোর জন্য ঐক্যমতের দরকার। আমারা যারা জাতীয় রাজনীতি করি, আমাতের মধে্য ঐক্যমত নাই। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশ বিক্রি করে দিতে রাজি আছি। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজের ওপর অন্য কাউকে বসায় দিতে রাজি আছি। তারপরও ক্ষমতায় যেতে হবে। এই জিনিসগুলো ছাড়তে হবে।’

এ সময় ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির রাহমান সানি, ভাইস চেয়ারম্যান জেবুননাহার মুক্তা ও অ্যাডভোকেট ছালামত উল্লাহ চৌধুরী শাহীন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) এটিএম কামরুল ইসলাম, ফটিকছড়ি পৌর মেয়র মো. ইসমাঈল হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারী নিজের নির্বাচনী আসন ফটিকছড়িতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সরকারকে এক প্রকার হুমকই দেন নজিবুল বশর। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমার মুখ খোলাবেন না। মুখ খুললে অসুবিধা হয়ে যাবে। আমি আপনাদের সঙ্গে (আওয়ামী লীগ) আছি, আমাকে সাইজ করার চেষ্টা করলে নিজেরাই সাইজ হয়ে যাবেন। ওরা এখনো নজিবুল বশর কি তা চিনে নাই। আমার জন্য অনেকে কথা বলবে। বিএনপিকে তো ঘরে ঢুকানো সম্ভব, কিন্তু নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে না।’

সেসময় দুই ছেলের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করায় একই বক্তব্যে দুদক কমিশনারের বাড়ির ইট খুলে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। 

আজকের সারাদেশ/১৭সেপ্টেম্বর/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

৫ কোটি টাকার পার্ক কাজে লেগেছে মাত্র ১ দিন, ১২ কোটি টাকায় ফের সংস্কার

বেনজিরের ‘বেনজির’ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অনড় কুবি শিক্ষক সমিতি

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম