সন্ধ্যা ৭:৩৫, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘সরকারের কাজ সরকার করুক, আমাদের কাজ আমরা করব’ 

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন

জাতীয় নির্বাচনের আগে সরব হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া ইসলামিয়া আজীজুল উলুম (বাবুনগর মাদরাসায়) সংগঠনটির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা এই সম্মেলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় দাবি করলেও নির্বাচনের আগে এমন কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে এই সম্মেলনের ডাক দেওয়া হলেও এর পাশাপাশি নানা বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় বলে মনে করেন সংগঠনটির অনেক নেতা-কর্মী।

সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের ২১১ সদস্যের কমিটি হয়। কমিটি হওয়ার পর নতুন করে চাঙা হতে চায় সংগঠনটি। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এই সভা হয়। সভায় সারাদেশ থেকে এসে নেতারা যোগ দেন।এতে সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

 
সভায় সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজেদুর রহমান কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে আগামী ২৮ অক্টোবর জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া বৈঠকে দেশব্যাপী জেলা,উপজেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করে প্রত্যেক জেলায় শানে রেসালত সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় দলটির আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দীর্ঘ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে আমাদের কোনো প্রার্থী নেই, প্রপাগান্ডাও নেই।কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের আমাদের সংশ্লিষ্টতাও নেই।আমরা বরাবর বলছি, এখনোও বলছি-কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানো আমাদের এজেন্ডা নয়। হেফাজতের ব্যানারে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ নেই।

সরকারের শত্রু নয় দাবি করে হেফাজতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের শত্রু নই, সরকারের কাজ সরকার করুক, আমাদের কাজ আমরা করব। তবে কোনো নাস্তিক্যবাদী শক্তি যদি মাথাচাড়া দেয় এবং ইসলামবিদ্বেষ ছড়ায়, আর তাতে যদি সরকার কোনো অ্যাকশন না নেয় অথবা সরকার যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, যা ইসলামি পরিপন্থী তাহলে ঈমানের তাগিদে আমরা প্রতিবাদ করব। প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

সম্মেলনের বিষয়ে কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হলে তাঁরা নাম প্রকাশ না করে জানান, গ্রেফতার নেতাদের মুক্তির দাবির পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে আমাদের অবস্থান পরিস্কার করা হবে সম্মেলনে। পাশাপাশি এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে থাকা কর্মীদেরও কাছেও নির্বাচনে আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় সংগঠনটি।

গত দুই বছর ধরে হেফাজতে ইসলাম তেমন একটা কর্মসূচি পালন করেনি। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমন ঘিরে সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি পালন করেন। তখন বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরও হয়। পরে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হেফাজতের বিপুল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনের তৎকালীন আমির আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সারা দেশের হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এরপর গত দুই বছর দৃশ্যমান তেমন কোনো বড় কর্মসূচি পালন করেনি সংগঠনটি। নির্বাচনের আগে এখন কমিটি গঠনের পর নতুন করে চাঙা হয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবারের সভায় প্রায় দেড়শ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ আজহারী।

সভায় অন্যদের মধ্যে আল্লামা মুফতী খলিলুর আহমাদ কাসেমী, মাওলানা মাহফুজুল হক, আল্লামা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবদুল আউয়াল, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী, মুফতী হাবীবুর রহমান কাসেমী, মুফতি মোবারক উল্লাহ, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ, মাওলানা খোবাইব, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা জালাল উদ্দিন, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মুফতী মাসঊদুল করীম প্রমুখ।

আজকের সারাদেশ/এসএম

সর্বশেষ সংবাদ