রাত ১১:৫৯, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্র পেটানো সেই অভিজিৎ এবার পেটালেন ইন্টার্ন চিকিৎসককে

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ৫৯ ব্যাচের ছাত্র অভিজিৎ দাশ। তবে পড়াশোনায় কৃতীত্বের জন্য নয়, ছাত্রলীগের এই নেতা বারবার আলোচনায় আসছেন মানুষ পিটিয়ে। প্রথমে তিনি আলোচনায় আসেন ২০২১ সালের অক্টোবরে। তখন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হামলা-সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সহপাঠী মাহাদি জে আকিবকে ক্ষুর দিয়ে মাথার খুলি থেঁতলে দেওয়ার ঘটনায় নাম আসে অভিজিতের। ওই ঘটনায় তাঁকে দুই বছরের জন্য বহিস্কারও করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু এই শাস্তিতেও কিছু যায়-আসেনি অভিজিতের। পাঁচ মাসের মাথায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এবার তাঁর নেতৃত্বে চমেকের চার ছাত্রকে প্রধান ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। সেই চার ছাত্রের দুজনের অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল, তাঁদের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিতে হয়। সেই অভিজিৎ দাশ আবারও আলোচনায়। এবার তিনি হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের শার্টের কলার চেপে ধরে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে চড় থাপ্পড় দিয়েছেন, দিয়েছেন হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও।

এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মেডিকেলের অধ্যক্ষ এবং হাসপাতালের পরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন মো. আকিল হায়দার জিদান নামের ওই ইন্টার্ চিকিৎসক।

থানায় করা জিডি থেকে জানা যায়, রোববার (৮ অক্টোবর) রাতে চমেক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত গাইনি বিভাগের প্রি-অপারেটিভ কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন জিদান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ সেখানে আসেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ও অভিজিৎ। তাঁরা এসেই তাদের পরিচিত একজন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে বলেন জিদানকে। তখন জিদান আরেকজন রোগীকে সেবা দিচ্ছিলেন। তাই জিদান একটু পরেই তাঁদের রোগীকে দেখার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ফয়েজ ও অভিজিৎ। এক পর্যায়ে অভিজিৎ অকথ্য ভাষায় জিদানকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং শার্টের কলার ধরে প্রথমে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দেন এবং পরে চড়থাপ্পড়ও দিতে থাকেন। মারধর শেষে যাবার সময় জিদানকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন দুজনে। জিদানকে হাসপাতালের ভেতরে আর ঢুকতে না দেওয়ার কথা জানিয়ে জুনিয়রদের দিয়ে মারধর করার কথা জানান। হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দিয়েছেন এমন অভিযোগ করা হয় জিডিতে।

মো. আকিল হায়দার জিদান জানান, বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ওরা দুজন যেকোন সময় আমার যে কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন করিতে বলে আশঙ্কা করছি। আমি সেজন্য থানায় জিডির পাশাপাশি বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষ এবং হাসপাতালের পরিচালক মহোদয়কে অবহিত করেছি।

পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই, নিরস্ত্র) মো. মামুনুর রশিদ জিডিটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযুক্তদের বিষয়ে অভিযোগের প্রমাণ মিললে বাকি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিজিৎ দাশ। তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ও ফয়েজকে ফাঁসাতে এই জিডি ও অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’