সকাল ৭:৩৪, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যানবাহনে আগুন দিয়ে তার ভিডিও পাঠানো হয় লন্ডনে: ডিবি প্রধান

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:
দেশে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে একের পর এক যানবাহনে আগুন দিয়ে তার ভিডিও ধারণ করে লন্ডনে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

নিউমার্কেট থানাধীন গাউছিয়া মার্কেটের সামনে গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর সুপার লিংক লিমিটেড বাসে আগুন দেওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানতে পারে পুলিশ।

রাজধানীর মিন্টো রোডে মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হারুন অর রশীদ।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, তানভীর আহমেদ (২৭), দেলোয়ার হোসেন (৫১) ও মো. ফারুক হোসেন (৪৩)। তাদের মধ্যে তানভীর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক। দেলোয়ার হোসেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও ফারুক হোসেন বিএনপির সক্রিয় সদস্য।

ডিবিপ্রধান বলেন,”বাসে অগ্নিসংযোগকারী তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর নিউমার্কেট যাত্রী ছাউনির পাশে বাসে আগুন লাগানোর ঘটনায় ডিবি-উত্তরা বিভাগ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার তানভীর আহমেদই সেদিন বাসটিতে আগুন দেয়। পরে তিনি নিজের ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে আগুন লাগানোর কথা জানান তার এক বন্ধুর কাছে। কথোপকথনে তানভীর লেখেন, ”আগুন লাগিয়ে কী হবে? আমরা আগুন লাগাচ্ছি আর লন্ডনে যারা আছেন তারা ভালো আছেন। উল্টো আগুন দিতে গিয়ে আমরা ধরা পড়ছি।”

হারুন অর রশীদ জানান, তাদের মধ্যে এমন কথোপকথন হয়েছে। তাকে যখন ডিবিতে নিয়ে আসা হলো, তখন তিনি স্বীকার করেছেন; এটি তিনি লিখেছেন।

তিনি বলেন, ”ডিবির কাছে তানভীর বলেছে, আমরা আগুন লাগাচ্ছি ও ককটেল নিক্ষেপ করছি। কিন্তু জেলে গেলে আমাদের দেখার কেউ নেই। যারা নির্দেশ দিচ্ছেন তারা কোথাও লুকিয়ে আছেন অথবা বিদেশে অবস্থান করছেন।”

তানভীরকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে জানিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন,”অনেকের নাম ও নম্বর পেয়েছি। তানভীরের সঙ্গে আর কারা কারা ছিল এসব বিষয় জানা যাবে। মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া থাকে যে, আগুন লাগানোর পর দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের ছবি-ভিডিও দেখাতে হবে। আগুন দেয়ার সময় মুখে মাস্ক ও রুমাল ব্যবহার করতে হবে। যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে আগুন দিতে হবে। এরপর আগুন লাগিয়ে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ককটেল কিনে এনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আবার কোথাও পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া হচ্ছে।

ডিবির বিভিন্ন টিম এরই মধ্যে অনেককে আইনের আওতায় এনেছে। তাদের মধ্যে অনেকে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ জবানবন্দি দিয়েছেন। কে কে তাদের সহয়তা করছে তাদের নামও আমরা পেয়েছি।”

নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যারা করছেন, তাদেরকে অনুরোধ জানিয়ে হারুন বলেন,”যার গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে, তার হয়তো জীবনের শেষ সম্বল বিক্রি করে দৈনিক রোজগারের জন্য বাসটি চালান। আপনারা আসলে একজন মানুষের স্বপ্ন পুড়িয়ে ফেলছেন।”

লন্ডন থেকে নেতা-কর্মীদের কাছে বাসে অগ্নিসংযোগের কোনো নির্দেশনা আসছে কি না, জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন,”আমরা অনেককে গ্রেপ্তার করেছি। তারা বলছেন, আগুন লাগানোর পরে সিনিয়র নেতাদের ভিডিও পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে লন্ডন ও ঢাকার ঊর্ধ্বতন নেতাদের কথাও বলেছে।”

আগুন লাগানোর পরে গ্রেপ্তাররা অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,”আগুন লাগানোর পর তারাও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা ধরা পরলে জামিনের জন্য তাদের বড় ভাইয়েরা কাজ করবেন কি না, এ নিয়েও উদ্বিগ্ন।”

আজকের সারাদেশ/২১নভেম্বর/এএইচ