সকাল ৮:৩২, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই

আজকের সারাদেশ ডেস্ক:

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছাড়াও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী সাজু হোসেন ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ নেশন-এর চেয়ারপারসন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) রাজু আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্যার মারা যান। তার প্রথম নামাজে জানাজা রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বারিধারা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আরেক দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ২০০৮ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সন্তান ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তিনি ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তারপরে মিডল টেম্পল-এ আইন বিষয়ক পড়াশোনা করেন। ১৯৬৫ সালে বার থেকে ব্যারিস্টার-ইন-ল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৬৫ সালের ২৬ নভেম্বর আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মইনুল। এরপর ১৯৬৬ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

মইনুল হোসেন ১৯৭৩ সালে পিরোজপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে ২০০০-২০০১ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মইনুল হোসেন।

২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর রাতে এক টিভির টকশোতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জামায়াতের এজেন্ট বললে তিনি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ করে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন। এ মন্তব্য নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর- এমন অভিযোগ তুলে দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

রংপুরের এক মামলায় ওই বছরের ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরার এক বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি।

আজকের সারাদেশ/০৯ডিসেম্বর