ভোর ৫:২৬, মঙ্গলবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার এক্সপ্রেস চালুর প্রথম ১০ দিনে যা ঘটেছে

সাইফুল আফ্রিদি:

দলবেঁধে বন্ধুদের আড্ডা,ছবি তোলা,সেলফি, বসে বসে গান গাওয়া হাত ধরে হাঁটাহাঁটি সবই আছে এখানে। নারী,পুরুষ, পরিবার পরিজন, শিশু কিশোর সকলের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। দোহাজারি- কক্সবাজার রেললাইন ঘিরে উচ্ছাস বাড়ছেই। তবে শঙ্কাও কম নয়। দুরন্ত শিশু কিশোর দল ট্রেন দেখতে ছুটে গেলেই নিরাপদে বাড়ি ফিরবে কি না সেই শঙ্কা বাড়ছেই। শিশুদের উচ্ছাসের আড়ালে অট্টহাসি হাসছে অপরাধীরা। তাদের উৎসাহিত, প্রফুল্লচিত্তের সুযোগ নিয়ে চারপাশে আড়িপাতা শুরু হয়ে গেছে অপরাধচক্রের। ট্রেন দেখার লোভ দেখিয়ে টার্গেট করছে শিশুদের। গত ৮ ডিসেম্বর ট্রেন দেখানোর নামে অপহরণও করেছে মিনহাজ নামক এক ছোট্ট শিশুকে। ৬ ডিসেম্বর সাবা-সামির দুই ভাই বোন ট্রেন দেখতে গিয়ে ঘাতকের গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস যাত্রার প্রথম দিনেই কাটা পড়ে হোসেন সুজন রাব্বি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ১০১ কি.মি রেলপথ যেন একটি দীর্ঘকায় ভয়ংকর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অপরাধচক্রদের জন্য এখন শিশুদের আনন্দই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু শিশু সাবা-সামিরই নয় সব বয়সের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই এখন এই রেলপথ। রেললাইন ঘেঁষে ছবি,সেলফি তোলছে প্রতিদিন। হুইসেল বাজালেও সরছে না মানুষ। গত ৭ ডিসেম্বর চলন্ত ট্রেনের সামনেই এক যুবক সেলফি তুলতে গিয়ে এখনো কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে। ওই যুবক রাশেদের মামা মো. ফারক জানান, রাশেদের বাড়ি সাতকানিয়ায়। নানা বাড়ি হতে ফিরতেই হঠাৎ কক্সবাজার থেকে ট্রেন আসতে দেখে সেলফি তুলতে রেললাইনে দাঁড়িয়ে যান রাশেদ। মুহূর্তেই পেছন থেকে ট্রেন এসে তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয়।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) রামু স্টেশনে চলন্ত রেলের পাশ দিয়ে হাঁটছেন এক তরুণ। বাতাসের ধাক্কায় পড়ে যায় নিচে ওই তরুণ । কক্সবাজার রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের পর থেকে প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। এরও আগে ৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে রেলের একটি ইঞ্জিন চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে হারবাং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলিফ্যান্ট টানেলে একটি গরু ট্রেনে কাটা পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মানুষের মন্তব্য, রেলপথটি নতুন হওয়ায় এই পথের মানুষ এখনো সচেতন হয়নি। অভ্যস্ত হয়নি গবাদিপশুও। ফলে মানুষসহ গরু,ছাগলও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তারা বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের সচেতনতা ক্যাম্পেইন যেমন জরুরি তেমনি সচেতন হতে হবে এই অঞ্চলের মানুষের।

কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশনসহ সর্বমোট ৯টি স্টেশন নির্মাণ হয়েছে রেলপথটিতে। দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, রামু হয়ে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পর্যন্ত এই রেল লাইন। সেসব স্টেশনের অনেক কাজও এখনো পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়নি। অসাবধানতা ও সচেতন না হওয়ায় পাথর,নাট বল্টু খোলে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালুর দ্বিতীয় দিনে ২ ডিসেম্বর রামু উপজেলার রশিদনগরে রেললাইনের বিটের নাট-বল্টু খুলে ফেলে দুষ্কৃতকারীরা। এর আগে ১২ নভেম্বর রাতে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের সাতকানিয়া অংশের হ্যান্ডেল ক্লিপ চুরি হয়।

ছেনওয়ান নামক এক রাখাইন যুবক জানান, অনলাইন পেইজে টিকিট কাটতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। খুইয়েছেন ১৩ শ টাকা। অনলাইনে রেলওয়ে টিকিট সম্পর্কে ধারণা না থাকায় প্রতারিত হয়েছেন তিনি।

তবে এসবের জন্য অসচেতনতাকে দায়ী করে কক্সবাজার খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে এনিয়ে সচেতনতা ক্যাম্পেইন জোরালো করা দরকার। এই অঞ্চলের মানুষের ট্রেন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকায় এ দূর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। শীঘ্রই ব্যবস্থা না নিলে আরো দূর্ঘটনার মাত্রা বাড়বে।

১৮৯০ সালের রেল আইনে রেললাইনের দুই পাশে ১০ ফুটের মধ্য দিয়ে মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ। এমনকি এর মধ্যে গরু-ছাগল ঢুকে পড়লে সেটিকেও নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের। রেলে কাটা পড়ে কেউ আহত হলে উল্টো ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে রেলওয়ে। আইন থাকলেও তা মানার প্রবণতা নেই।

রেল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১০২ কি.মি দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইনে ৯৬ টি অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে এখনো নিয়োগ হয়নি স্থায়ী জনবল। ফলে সেসব স্থান দিয়ে যখন-তখন পার হচ্ছে যানবাহন আর মানুষ। রেললাইনে উঠে খেলছে শিশুরাও। ফলে লেভেল ক্রসিংগুলোও হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।

রেল ঘিরে মানুষের প্রেম শতাব্দীর পর শতাব্দী। সেই ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর ব্রিটিশের উপনিবেশের হাত ধরে চালু হওয়া ট্রেন এখনো সমান যৌবন নিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে। যেখানেই রেল যাচ্ছে রেলকে ঘিরে মানুষের আবেগ,প্রেম বাড়ছে। শিশুদের জন্য তো রেল এক বিস্ময়ের বস্তুতে পরিণত হয়েছে সেই বহুদিন আগেই।

তবে অসাবধানতা আর আগ্রহই যেন কাল হচ্ছে আগ্রহী মানুষের। ট্রেন আনন্দ বিষাদ হয়ে উঠছে পথের পাঁচালির দুরন্ত অপু-দূর্গা দলেরও। এতে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে সর্বত্র। রেল ঘিরে সচেতনতার পদক্ষেপ না নিলে দূর্ঘটনা আরো দীর্ঘ হবে বলে মনে করেন সচেতন মানুষ। জীবনঝুঁকি বাড়লেও আগ্রহ কমছেনা অপু-দুর্গা দলের।

আজকের সারাদেশ/একে

সর্বশেষ সংবাদ

সিলেটে বন্যার পানিতে ভেসে গেল লাখো মানুষের ঈদ আনন্দ

এবার সেন্টমার্টিনের অদূরে দেখা গেল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ

ঈদের জামাতে আচমকা পড়ে গেলেন আ জ ম নাছির, ধরে তুললেন নওফেল

বিশ্বকাপে ‘ডট বলের বিশ্বরেকর্ড’ তানজিম সাকিবের

বিশ্বকাপের রেকর্ড ভেঙে সুপার এইট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর থাকার নির্দেশ

২৪ মণ ওজনের ‘শান্ত’র দাম ৮ লাখ, কিনলেই ফ্রি ৩ মণের ‘অশান্ত’

ঈদের ছুটিতে মূল্যবান সম্পদ রেখে যেতে পারবেন থানায়: সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রামে সাড়ে ৩ লাখ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের প্রস্তুতি, মজুত রাখা হয়েছে ২১ হাজার টন লবণ

মাঝ নদীতে সন্তান প্রসব, মা-শিশুর আজীবন ভাড়া ফ্রি করল জাহাজ কর্তৃপক্ষ