সকাল ৮:২৫, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে নাশকতার ছক আঁকতে গিয়ে ৪ আরসা সদস্য গ্রেফতার

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

আসন্ন নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বাড়িতে অবস্থানকালে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। এসময় র‍্যাবের সাথে আরসার গুলাগুলির ঘটনা ঘটে।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানকালে এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির পর আরসার শীর্ষ কমান্ডারসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নাশকতা পরিকল্পনা করছেন একদল দুষ্কৃতিকারী। আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যস্ত থাকার সুযোগে আরসার সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের জমায়েত এবং নাশকতা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পনা করছিল। পরে র‌্যাব-১৫ একটি দল সোমবার রাতে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভিযানে যায়। সেখানে পৌঁছে আরসা সন্ত্রাসীদের একটি আস্তানা ঘিরে ফেলা হয়। এসময় আরসার সদস্যরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আরসার এক কমান্ডারসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

নাশকতা পরিকল্পনায় গ্রেফতারকৃত আরসা সদস্যরা হলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প-১০ এর বাসিন্দা নজিব আহম্মদের ছেলে ইউনুস প্রকাশ মাস্টার ইউনুস (৩৭), কুতুপালং ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা আব্দুল মোতালেবের ছেলে মফিজুর রহমান প্রকাশ মুজিয়া (৩৮), ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট এর বাসিন্দা হাসু মিয়ার ছেলে এনায়েত উল্লাহ (২৬) ও ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা আবদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ জাবের প্রকাশ আমানুল্লাহ উল্লাহ (২৭)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজন আরসা সদস্য পালিয়েছে বলে জানায় তারা।

সাজ্জাদ হোসেন আরও জানান, গ্রেফতার আরসা কমান্ডার মাস্টার ইউনুস আরসার হিসাব শাখার প্রধান। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পে বড় ধরনের অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ঐ আস্তানায় জমায়েত হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন। তাদের আস্তানা থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার গান, দুটি দেশীয় এলজি, চার রাউন্ড বিদেশি পিস্তলের কার্তুজ, পাঁচটি এলজির কার্তুজ, পাঁচটি বড় ককটেল, আটটি ছোট ককটেল, চারটি স্মার্টফোন এবং দুটি পকেট নোটবুক, দুটি হিসাবের খাতা, ৪৪ পৃষ্ঠা হিসাবের খাতা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) আবু সালাম চৌধুরী জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আজকের সারাদেশ/একে