সন্ধ্যা ৭:৪৮, সোমবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চমেক হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:


চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে হঠাৎ উধাও হওয়া নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ফেনীর পশুরাম এলাকা থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার ও অভিযুক্ত ২ জনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ আরিফ সোহেল।

আটক ২জন হলেন ফেনীর পরশুরাম থানার মোসাঃ নাসিমা আক্তার (২৩) ও মোসাঃ খারু আক্তার (৪২)।

এর আগে মঙ্গলবার চমেক হাসপাতাল থেকে চারদিন বয়সী একটি নবজাতক চুরি হওয়ার অভিযোগ করেন স্বজনরা। মঙ্গলবার সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টার মধ্যে হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) নবজাতক চুরির এই ঘটনা ঘটে বলে জানান তারা। এই ঘটনায় রাতেই পাঁচলাইশ থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন নবজাতকের পিতা আবু মো. নোমান।

চমেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি ছিল ৪ দিন বয়সী ওই নবজাতক। একই হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে নবজাতকের মা আসমা বেগমও উচ্চ রক্তচাপ এবং সার্জারী পরবর্তী নানা জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নবজাতকের স্বজনরা জানান, নোমান-আসমা দম্পতির প্রথম সন্তান ওই নবজাতক। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর সিকদার পাড়া এলাকায়। শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হয় শিশুটির। শ্বাসকষ্টসহ কিছু সমস্যা নিয়ে রোববার শিশুটিকে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারী (৩২ নম্বর) ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়।

নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) একটি নবজাতক অতিরিক্ত পাওয়ার সূত্র ধরে হারানো নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান। তিনি বলেন, বাচ্চাটি নিখোঁজের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজেও সবাইকে যথাযথ কাগজপত্র নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। তবে হিসেব করে ওয়ার্ডে একটা নবজাতক বেশি পাওয়া গেছে। ওই নবজাতকের রেকর্ডে দেওয়া মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে আনয়নকারী কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়। রাতেই পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে শিশুটিকে উদ্ধার করে।’

হারানো নবজাতককে পুলিশ দ্রুত সময়ে উদ্ধার করায় দারুণ খুশি তার পিতা আবু মো. নোমান। শিশুটি উদ্ধারের পর তিনি বলেন, ‘আমি এখন অনেক খুশি। আমার বাচ্চাকে ফিরে পেয়েছি, পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা হচ্ছে এখন।’

‘যেই মহিলা বাচ্চাটা নিয়ে গেছে, তাকে, তার স্বামী ও মাকে পুলিশ নিয়ে আসছে। মূলত ওজন কম ও শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তার বাচ্চা রেখে আমার বাচ্চা চুরি করে নিয়ে গেছে।’

এর আগে নবজাতক হারানোর পর মঙ্গলবার রাতে আবু মো. নোমান বলেন, ‘হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮ টা থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত ওয়ার্ডে কোনো স্বজন যেতে পারেন না। সকালে আমার শাশুড়ী আমার বাচ্চাকে দেখে এসেছেন। দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সোয়া দুটার দিকে আমার খালা বাচ্চাটা দেখতে গিয়ে দেখে বাচ্চা নাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া না যাওয়ায় আমরা সবাইকে জানাই।’

আজকের সারাদেশ/২০ডিসেম্বর/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ