সকাল ৭:৩২, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমার সঙ্গে থেকে পিঠে ছুরি মেরেছেন মোতাহের: হুইপ সামশুল

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:
নিজের সঙ্গে থেকেই নৌকার প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম পিঠে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনুমতি দিয়েছেন। আমি মনে করি এটা তাঁর অন্যতম সেরা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। মাঠে জনগণের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তি বাছাইয়ের এমন সুযোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি, আসবেও না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী সিভয়েসকে বলেন, ‘কে কার পিঠে ছুরি মেরেছে, কে কী করেছে সবই মানুষ জানে। আঙুল ফুলে কে কলাগাছ হয়েছে-তাও পটিয়াবাসী জানে। আওয়ামী লীগ সব সময় সন্ত্রাসের বিপক্ষে। সামশুল হকই সন্ত্রাসী লালন-পালন করেন।’

পটিয়ার সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন করছেন জানিয়ে সামশুল হক বলেন, ‘ঈগল প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেব।’

নৌকার প্রার্থীর অনুসারীরা তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্বাচনি প্রচারের শুরুর দিন থেকেই মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারী কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমার লোকজনকে বাধা দিচ্ছে। যেখানেই আমার কর্মী-সমর্থকরা গণসংযোগে যাচ্ছেন সেখানেই হামলা করছে। আমার নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করছে।’

‘আমার গণসংযোগে সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি ও ঢল দেখে মোতাহেরুল ইসলাম হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। তাই আমাকে ঠেকাতে তিনি সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন। সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়িয়েছেন। যাদের নাম শুনলে পটিয়ার মানুষ এখনও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’— যোগ করেন হুইপ সামশুল।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পেরেছি, মোতাহেরের ঘনিষ্ঠ এক সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক একজন জনপ্রতিনিধি এবং কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে পরিকল্পনা করছে নৌকার নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর বা পুড়িয়ে এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করে আমার নেতাকর্মী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দেওয়ার। আমি একজন প্রার্থী হয়ে প্রশাসনকে অনুরোধ করব এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে। আমার পক্ষ থেকে আজই পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হবে।’

সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে পটিয়ায় নৌকার অনুসারী দাবিদাররা ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা প্রকৃত অর্থে নৌকার সমর্থক বা অনুসারী কিনা সেটাও আমার সন্দেহ হয়।’

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠ থেকে সরবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে জমি দখল, বালুর ব্যবসা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকানে ডাকাতি-চাঁদাবাজি বন্ধ করেছিলাম।‘

মোতাহেরুল সুযোগ বুঝে কোপ মারেন মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন, ‘উনি সুযোগ বুঝে কোপ মারেন। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখেছি। নবাব সিরাউদ্দৌলা-মীর জাফর ও বঙ্গবন্ধু-মুশতাক এগুলো থাকবে। আমার সঙ্গে থেকে তিনি আমার পিঠে ছুরি মেরেছেন। উনি নির্বাচনে মনোনোয়ন পেয়ে আমাকে একটি কল করতে পারতেন। একটা চক্র উনাকে পরিচালিত করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ কবির চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেবব্রত দাশ, বিজন চক্রবর্তী, নাসির আহমদ, আবু ছালেহ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুন ও ওমর সুলতান চৌধুরী।

আজকের সারাদেশ/২১ডিসেম্বর/এএইচ