সকাল ৮:৫০, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পরকীয়া জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে গরম চা ঢেলে ঝলসে দিলেন চবি শিক্ষক!

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক জানাজানি হওয়ায় স্ত্রীকে মারধর ও গরম চায়ের পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনাবিল ইহসানের (৩১) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নিশাত জাহান (৩০)। আদালত নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের জন্য হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি হাটহাজারী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মামলার আসামি হওয়া চবি শিক্ষক অনাবিল।

ভুক্তভোগী নিশাত জাহান চবির সংগীত বিভাগে ‘সংগীতের নন্দনতত্ত্ব বিচার’ বিষয় নিয়ে এমফিল কোর্সে অধ্যয়ন করছেন। তিনি জামালপুর জেলার সদর থানার আরামবাগ বোষ পাড়ার এলাকার বাসিন্দা এস এম নজরুল ইসলামের মেয়ে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরীর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপর আদালতের আদেশ পেয়ে ৫ ডিসেম্বর ৩ আসামির বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা রুজু হয়। এতে চবি শিক্ষক অনাবিল ইহসান ছাড়াও তার মা শরীফা আক্তার বানু (৫৩) এবং বাবা মো. আব্দুল খালেক বিশ্বাসকে (৬০) আসামি করা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(২)খ, ১১(খ) ও ৩০ ধারা তথা দহনকারী গরমপানির মাধ্যমে ভুক্তভোগীর হাতের ক্ষতি, যৌতুকের দাবিতে মারাত্মক জখম ও সহায়তার অপরাধ উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে নিশাত জাহানের সঙ্গে অনাবিলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরযাত্রী আপ্যায়নের পাশাপাশি নিশাতের পরিবারের পক্ষ থেকে অনাবিলকে ৩৭ প্রকারের ফার্নিচার ও তৈজসপত্র উপহার দেওয়া হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর ২ লাখ টাকা ধার্য করে এই মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিশাতকে দেওয়া হয়। বিয়ের পর নিশাতকে অনাবিলের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিশাতের স্বর্ণালঙ্কার খুলে নেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি। এরপর থেকে নানা সময় অনাবিলের জন্য মোটরসাইকেল এবং ভালো জিনিসপত্র উপহার না দেওয়ায় নিশাতকে অপমান করতেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি।

একপর্যায়ে অনাবিল তার স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় চলে আসেন। সেখানে আসার পর থেকে অনাবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে জমি কেনার জন্য নিশাতকে তার বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। বাসাটিতে চাপ সৃষ্টি করে নিশাতকে কথায় কথায় মারধর করতেন অনাবিল।

এরই মধ্যে আসামি অনাবিল সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনের মধ্যে আদান-প্রদান করা নানা মেসেজ জেনে যান নিশাত। বিষয়টি অনাবিলের বাবা-মাকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। অন্যদিকে সার্বিক বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চা বানানোর সময় নিশাতকে মারধর ও হাতে ফুটন্ত চায়ের পানি ঢেলে দেন অনাবিল। এতে নিশাতের বাম হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ ঝলসে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ভুক্তভোগী নিশাত জাহান বলেন,
বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে। আমার পরিবারের পক্ষে থেকে ফার্নিচারসহ যাবতীয় জিনিসপত্র দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জায়গায় ক্রয় করতে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।

তিনি আরও বলেন, অনাবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। রাতে-বিরাতে তার সঙ্গে কথা বলে। পরকীয়া ও যৌতুকের দাবিতে এক পর্যায়ে চা
ঢেলে দিলে হাতের তালু থেকে কনু পর্যন্ত ঝলসে যায়। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধান করার জন্য চেষ্টা করলেও অনাবিলের পরিবার সাড়া দেয়নি।

অভিযুক্ত চবি শিক্ষক অনাবিল ইহসান বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে চলছে। আমি গত ২৪ অক্টোবর নিশাত জাহানকে তালাক দিয়েছি।

মামলাটি তদন্ত করছেন হাটহাজারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিভাস কুমার সাহা। তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

আজকের সারাদেশ/একে