সন্ধ্যা ৭:৫৯, সোমবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চট্টগ্রামে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেও আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরের ১৬ টি সংসদীয় আসনকে দু’ভাগে ভাগ করেছে নির্বাচন কমিশন। যার জন্য দু’জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ইসি। ১৬ টি আসনের মধ্যে ৬ টিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং বাকি ১০টি আসনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। এছাড়াও চট্টগ্রামের ২ হাজার ২৩টি ভোটকেন্দ্রে ২৫ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

আচরণবিধি ভঙ্গ রোধ ও ভোটারদের ভয় দূর করতে উদ্যোগ:

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি তদারকির জন্য চট্টগ্রামে ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা ও সতর্ক করেছে তারা। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৯৬ প্লাটুন প্রায় ১ হাজার ৯২০ জন সদস্য, র‍্যাবের ৩২ প্লাটুন প্রায় ৭৫০ জন, ৮ হাজার পুলিশ সদস্য, কোস্টগার্ডের ১৫০ জন, আনসার বিডিপির ২৪ হাজার ২৭৬ জন সদস্যসহ মোট ২ হাজার ২৩টি কেন্দ্রে সর্বমোট ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও ৩ জানুয়ারি থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে সেনাবাহিনীর ৫০০ সদস্য।
এর বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে অস্ত্রধারীসহ ৩ জন পুলিশ ও ১২ জন করে আনসার সদস্য থাকবেন।

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১৬ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন। যেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন সিনিয়র সহকারী জজ এবং যুগ্ম জেলা জজের মত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে সর্বমোট ৭৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট প্রদানের উদ্যোগ ও গ্রহনযোগ্যতা নিশ্চিতে যে ব্যবস্থা:

আসন্ন ৭ জানুয়ারি ভোট সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশের সুযোগ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও খোলা হয়েছে। যেখানে অভিযোগ পেলে সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক ভোট বন্ধের কথাও জানিয়েছে ইসি। পাশাপাশি ২ ঘন্টা পরপর মোট ভোটগ্রহণ ও শতকরার চিত্রও সফটওয়্যারের মাধ্যমে জানাবে ইসি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসতে পারবে। আমরা তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। ভোট কেন্দ্র দখলকারীদের কঠোরভাবে দমন করার কথা জানিয়ে ভোট গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।

আজকের সারাদেশ/একে

সর্বশেষ সংবাদ