রাত ১১:০০, বুধবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোতালেবের ব্যানারে বিপ্লব বড়ুয়ার ছবি, নদভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ইসিতে

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মোতালেবের পোস্টারে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়ার ছবি ব্যবহার নিয়ে ব্যপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মোতালেবের অনুসারীরা জানিয়েছেন, তারা এ পোস্টার প্রকাশ করেননি, নৌকার প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী ও তার অনুসারীরা ভুয়া পোস্টার মুদ্রণের সঙ্গে জড়িত।

এ অবস্থায় বিপ্লব বড়ুয়ার পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, যাতে নদভী ও তার অনুসারীদের দায়ী করা হয়েছে। বিপ্লব বড়ুয়ার আইনজীবী জিকো বড়ুয়া এ অভিযোগ জমা দেন, যার একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবরে পাঠানো হয়।

বিপ্লব বড়ুয়ার পক্ষে অভিযোগে বলা হয়েছে, আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে বিতর্কিত, অস্থিতিশীল ও অগ্রহণযোগ্য করতে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও তার অনুসারীরা বিপ্লব বড়ুয়ার ছবি এবং নাম সম্বলিত একটি পোস্টার ব্যবহার করছেন। পোস্টারে ওই আসনের অপর প্রার্থী আব্দুল মোতালেব ও তার প্রতীক ঈগলের ছবিসহ আছে। নদভী প্রচার করতে চাইছেন, ঈগল প্রতীকের প্রার্থী বিপ্লব বড়ুয়া সমর্থিত। এমনকি এক নির্বাচনি জনসভায়ও নদভী নিজ হাতে ওই পোস্টার প্রদর্শন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংসদ সদস্য নদভীর এরকম কর্মকান্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ১১ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা বিধি ১৭(১) মতে ‘নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়াও নৌকার প্রার্থী নির্বাচনের আগে একাধিক সমাবেশে স্পষ্টভাবে বিপ্লব বড়ুয়ার নাম উচ্চারণ করে বিভিন্ন কটূক্তি করেছেন।

এছাড়া তিনি নিজেকে ‘সহজ মানুষ নন…’ উল্লেখ করে ও বিপ্লব বড়ুয়াকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায় নামতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারিত হয়। বিপ্লব বড়ুয়ার ছবি ও মিথ্যা বক্তব্য সম্বলিত পোস্টার মুদ্রণ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিভিন্ন উপায়ে বণ্টন করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে চরম হুমকি।

এদিকে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘এতো মিথ্যাচার-ষড়যন্ত্র করে কী লাভ? বানোয়াট-ভিত্তিহীন কোনো কিছুর কী স্থায়িত্ব থাকে? আমার ছবি দিয়ে নিজেরাই পোস্টার ছাপিয়ে অপপ্রচার করতে পারবেন- ষড়যন্ত্র করতে পারবেন। কিন্তু কখনো সফল হতে পারবেন না। অতীত তাই বলে।’

‘সত্য ও সততার নিজস্ব একটি শক্তি থাকে, তা অপরাজেয়। সত্য সব সময় আত্মশক্তিতে বলিয়ান। মিথ্যা দিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যায় না। আমি ঢাকা-৮ আসনের একজন ভোটার। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকাতেই ভোট দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী-এমপি কিংবা বড় পদ-পদবী পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামিনি। ভবিষ্যতেও নামবো না। আমি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি, আমার ছবি ব্যবহার করে কে বা কারা পোস্টার ছাপিয়েছে তা খুঁজে বের করতে। আমি কোনো দিন কোনো প্রকার কপটতা বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করিনি।’

এ অভিযোগের বিষয়ে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনী এক সভায়, নিজেকে শেখ হাসিনার প্রার্থী এবং মোতালেবকে বিপ্লব বড়ুয়ার প্রার্থী বলে বক্তব্য দেন নেজামউদ্দিন নদভী। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

আজকের সারাদেশ/একে

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম

‘জীবন বাজি রেখে রাজপথে যথেষ্ট ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা হাসানুল করিম মানিক’

তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনের মালিক রাশিয়া

এভারকেয়ার হসপিটাল শিশু হৃদরোগ বিভাগের আয়োজনে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

২ লিটারের বেশি পানি না নিতে নোটিশ দিল চবির শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট