রাত ১২:২৮, বৃহস্পতিবার, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নদভী-কাণ্ডে বিব্রত আওয়ামী লীগ

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরীর জামাতা আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। এতে অনেকটা রাতারাতিই সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের রাজা বনে যান তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠ নদভীর পরিবারও রাতারাতি আওয়ামী পরিবার বনে যায়। নানা তদবির একাদশ জাতীয় সংসদেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে হঠাৎ পাওয়া রাজত্ব ধরে রাখেন। এরমধ্যে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ, জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়া, দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হন কয়েকবার। এত অপকর্মের পরও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন নদভী। সরকারের অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনকে শাসিয়ে ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াত ঘরনার এই আওয়ামী লীগের সাংসদ।

সম্প্রতি নির্বাচনী এলাকার পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সর্মথকদের একটি তালিকে দিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন নদভী৷ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করলে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ জনকে খুনেরও হুমকি দেন তিনি। সেই হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৫৭ সেকেণ্ডের ওই ভিডিওতে স্থানীয় পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সাংসদ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীকে বলতে দেখা যায়, ‘এখন আমার কথা হল যে- আপনারা সাত্তার সাহেব, শিবলী নোমান, ইউনুস সাহেব, আপনারা আমাকে দুইটার মধ্যে একটা কথা বলেন, কালকে থেকে আমরাও কি মাঠে নেমে যাব মারামারিতে? মাঠে নেমে যাব কি-না? আমাদের সাথে পারবে না, কিন্তু ২০ থেকে ৩০ জন মার্ডার হয়ে যাবে। করব নাকি, আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন’।

তিনি বলেন, ‘আপনারা আসতেছেন সামরিক সচিব টেলিফোন করার পরে। সামরিক সচিব টেলিফোন করা মানে বুঝেন তো। আমাকে বিভাগীয় কমিশনার সাহেব বলেছেন, ডিসি সাহেব বলেছেন, ডিআইজি মিনা সাহেব বলেছেন- সামরিক সচিব কড়া অর্ডার দিয়েছে। এখন আপনারা কি করবেন না করবেন? এই যে তালিকা দিয়েছি, এই তালিকার যদি পুরো গ্রেফতার না করেন, তাহলে কালকে…’। এর পরে কি বলেছেন সেটার ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভিডিওটি শুক্রবার রাতে নদভীর নির্বাচনী এলাকা থেকে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও’র বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু রেজা মো. নেজাম উদ্দিন নদভীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কেটে দেন। ফলে ভিডিওর বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ভিডিওতে নদভীর হুমকীর সময় পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের অনেকটা অসহায় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাদের কোনো প্রতিবাদ বা শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

নৌকার প্রার্থীর এমন আচরণে বিব্রত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের অর্বাচিন, অপরিপক্ষ ও শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণে দল বিব্রত।’

এমন আচরণকারীদের ভবিষতে দলকে মুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

আজকের সারাদেশ/০৬জানুয়ারী/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম

‘জীবন বাজি রেখে রাজপথে যথেষ্ট ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা হাসানুল করিম মানিক’

তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনের মালিক রাশিয়া

এভারকেয়ার হসপিটাল শিশু হৃদরোগ বিভাগের আয়োজনে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

২ লিটারের বেশি পানি না নিতে নোটিশ দিল চবির শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট