সকাল ৬:০০, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাঁশখালীতে যে কারণে ‘নষ্ট হলো’ ৩৭ হাজার ভোট

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট বাতিল হয়েছে বাঁশখালী আসনে। এই আসনে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ২৯ শতাংশই বাতিল হয়েছে। যা জয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের চেয়েও বেশি। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের আর কোনো আসনে এত ভোট বাতিল হয়েছে এমনটা দেখা যায়নি।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) এবার ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ২২৩ জন। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৯৬৮ ভোটই বাতিল হয়েছে। এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মুজিবুর রহমান। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এই সহসভাপতি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের আব্দুল্লাহ কবির লিটন পেয়েছেন ৩২ হাজার ২২০ ভোট। অর্থাৎ লিটনের পাওয়া ভোটের চেয়ে বেশি ভোট বাতিল হয়েছে।

যে কারণে এত ভোট বাতিল:

মূলত একটি কারণেই বাঁশখালীতে এত ভোট বাতিল হয়েছে। রোববার (৭জানুয়ারি) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে এই আসনের নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাংগীর আলম বিফ্রিংয়ে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘
তিনি (মোস্তাফিজুর) আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুমকি দিয়েছেন, তাদের ওপর চড়াও হয়েছেন৷ সব বিবেচনায় নিয়ে কমিশন তার প্রার্থীতা বাতিল করেছে।’

কিন্তু ততক্ষণে মোস্তাফিজুরের বেশিরভাগ সমর্থক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফেলেছেন। কিন্তু প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় মোস্তাফিজুরের পক্ষে পড়া ভোটগুলো আর গণনার প্রয়োজন পড়েনি। সেগুলোকে বাতিল তালিকায় রাখা হয়। সেজন্য বাতিল হওয়া ভোটের বেশিরভাগই আসলে মোস্তাফিজুরের পক্ষে পড়েছিল।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক
আবুল বাসার ফখরুজ্জামানও জানিয়েছেন একজন প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় বাঁশখালীতে বাতিল ভোটের সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় বাঁশখালী আসনে একজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। সেজন্য ওই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটগুলোকে বাতিল ভোট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে কারণে এই আসনে বাতিল ভোটের সংখ্যা তুলনামূলক একটু বেশি।’

বাঁশখালী আসনের নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বহুদিন ধরেই নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন। নির্বাচনের শুরু থেকে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালচনায় পড়েন। মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে বসেন, সেই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করে। সেই মামলায় জামিন পেলেও শুধরাননি মোস্তাফিজুর। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বাঁশখালীর ওসি তোফায়েল আহমেদকে ফোন করে ‘আমার লোকজনের ওপর হাত দিলে আমি হাত কেটে ফেলব বলে দিলাম’ বলে হুমকি দেন তিনি। সেই কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেটি নিয়ে চারপাশে সমালোচনা হলেও দমে যাননি মোস্তাফিজুর। এবার নির্বাচনের দিন থানায় গিয়ে শাসিয়ে আসেন ওসিকে। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর প্রার্থীতা বাতিলের ঘোষণা আসে ঢাকা থেকে।

নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে মোস্তাফিজুর শুধু নিজেরই সব হারাননি, সমর্থকদের ভোটগুলোকেও নিয়ে গেছেন-‘বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা’র তালিকায়!

আজকের সারাদেশ/একে