রাত ১২:৫৩, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্রদের ওপর নির্ভর করে গঠন হবে বিরোধী দল: আইনমন্ত্রী

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সদস্যদের অবস্থানের ভিত্তিতে বিরোধী দল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘স্বতন্ত্রদের অবস্থান ঘোষিত হওয়ার পর বিরোধী দল নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ককাস করতে (দলভুক্ত হতে) পারবেন। তবে তারা আলাদা আলাদা থাকলে জাতীয় পার্টি প্রাধান্য পাবে। স্বতন্ত্রদের অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

মঙ্গলবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।

আনিসুল হক বলেন, ‘স্বতন্ত্ররা যদি মনে করেন তারা আলাদা আলাদা থাকবেন, তবে জাতীয় পার্টি যেহেতু ১১টি আসন পেয়েছে, তারা অবশ্যই (বিরোধী দল হিসেবে) প্রাধান্য পাবে।’

বিরোধী দল হতে হলে ন্যূনতম ১০ শতাংশ আসন থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কাল (বুধবার) নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।

‘আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর রাষ্ট্রপতি তাকে নতুন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। এ আমন্ত্রণের পর প্রধানমন্ত্রী নতুন সরকার গঠন করবেন। নতুন সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত না গঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এখন যে সরকার আছে, তারা দায়িত্বে থাকবেন।’

সরকার গঠনে নির্ধারিত সময় না থাকলেও সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার রীতি রয়েছে বলে জানান সংসদবিষয়ক মন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মনে হয়, এবারও তা-ই হবে।’

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নতুন সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর তাদের শপথ নেবেন। এক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শপথগ্রহণের সময়সীমা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

স্বতন্ত্ররা কোনো মোর্চা করতে পারবে কি না- এ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘কেন পারবে না? স্বতন্ত্ররা যদি মনে করেন- তারা সরকারের সঙ্গে না থেকে নিজস্ব একটা গ্রুপ করবেন, অবশ্যই তারা সেটা করতে পারেন। তখন কাকে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে, সেটা নির্ধারিত হবে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কাল শপথ নেয়ার পর স্বতন্ত্রদের অবস্থান কী হবে, তারা নিশ্চয়ই জানাবেন। স্বতন্ত্রদের অবস্থান নির্ণয় হওয়ার পরই আমার মনে হয় বিরোধী দলে কারা থাকবেন সেটা আমরা বুঝতে পারব।’

স্বতন্ত্র যারা তারা আওয়ামী লীগের; এখন তারা যদি বিরোধী দলে যায়, তবে সংসদে দুপক্ষই আওয়ামী লীগের হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই তারা নির্বাচিত হয়েছেন; তাদের প্রতীকও ছিল ভিন্ন। সেক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগের- এটা মুখের কথা হতে পারে, কিন্তু আইন ও বাস্তবতার কথা সেটা নয়।

‘তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তারা যদি মনে করেন যে তারা স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকবেন, তাহলে দেখা হবে- কতজন স্বতন্ত্র হিসেবে থাকলেন। যদি দেখা যায়, তারা একটা মোর্চা করছেন, তখন অবশ্যই সেখানে বিরোধীদল কে হবে- তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের করা দাবির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বলে আসছি- নির্বাচন তখন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়, যখন জনগণ ভোট দেয়। আপনারা সবাই দেখেছেন এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে এবং নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। সেজন্য আমরা বলব- আমরা যেটা বলি সেটা সঠিক। এর কারণ, বাস্তব চিত্র আমরাই দেখেছি। এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে যেটা জনগণ স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ওপর কারও স্বীকৃতি প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।’

আজকের সারাদেশ/০৯জানুয়ারী/এএইচ