রাত ১:১৯, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দালালরা গণতান্ত্রিক সরকার চায় না: প্রধানমন্ত্রী

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

এক শ্রেণির দালাল ও বিদেশিদের পদলেহনকারী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকুক সেটা চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বৈপ্লবিক উন্নতি হয়েছে; দেশ এগিয়ে যাচ্ছ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু দেশে একশ্রেণির দালাল এবং বিদেশিদের পদলেহনকারীদের কাছে সেটা ভালো লাগে না। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকুক সেটা তারা চায় না।’

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই জনসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা।

এবারের নির্বাচন বানচালের জন্য দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র ছিল অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘অনেকের অনেক স্বপ্ন আছে। নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। ব্যর্থ হয়ে রেল, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। শেষে জনগণকে নির্বাচন বর্জনের ডাক দেয়। দেশের মানুষ কিন্তু বিএনপির আহ্ববানে সাড়া দেয়নি।’

সবকিছু উপেক্ষা করে দেশবাসী আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে উল্লেখ করে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, ভোট দিয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ১৩০ বছরের বুড়ি মা ভোট দিতে এসে জানিয়েছেন- হাসিনাকে ভোট দিতে এসেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির ভাগ্য গড়ার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনটা উৎসর্গ করেছিলেন। যুদ্ধের পর মানুষের কোনো কিছু ছিল না। থাকার ঘর নেই, বাড়ি নেই, তাদের ভবিষ্যৎ নেই, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। সেই জাতির জন্য, তাদের ভাগ্য গড়ার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজেকে উৎসর্গ করেন। অনেক সংগ্রাম-ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি এই দেশ স্বাধীন করেন।

‘পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে এসেছিলেন এই বাংলাদেশে। সবার আগে ছুটে এসেছিলেন এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, কী কী কাজ করা দরকার, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশকে কীভাবে তিনি গড়ে তুলবেন- সেসব বিষয়ে তিনি ভাষণেই উল্লেখ করেছিলেন, যে ভাষণ তিনি এ জায়গায় দিয়েছিলেন। এই ভাষণ যখন শুনি, আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই। দীর্ঘ ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেখানে তাকে ঠিকমতো খাবারও দেয়া হতো না। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হয়েছিল তাকে। এমনকি একটি পত্রিকাও তার জন্য রাখা হয়নি। তার ফাঁসির হুকুম হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছিলেন তিনি।

‘দেশে পা রেখেই বঙ্গবন্ধু ছুটে যান বাংলার জনগণের কাছে। ১০ জানুয়ারি এখানেই তিনি ভাষণ দেন। সেই ভাষণে একটি দেশের ভবিষ্যৎ, উন্নয়ন, সব পরিকল্পনা, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পরিকল্পনা, মহান মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ, সেটাই তিনি তুলে ধরেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাকে হত্যা করে। তারপর দীর্ঘদিন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি এ দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ছিল। দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। অনেক ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।’

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘একদিকে খুনি, আরেকদিকে যুদ্ধাপরাধী; তারাই ক্ষমতায়। সেই অবস্থার মধ্যে আমি ফিরে আসি। জনগণের ভোট ও ভাতে নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে ফিরে আসি। বাবা-মা ভাই-বোন হারা এই আমাকে এ দেশের মানুষ আপন করে নিয়েছিল। তারাই ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছিল। যে কারণে দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছি। এখন আর কেউ এই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না।’

প্রয়োজনে বাবার মতো নিজের জীবনও বিলিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।

আজকের সারাদেশ/১০জানুয়ারী/এএইচ