ভোর ৫:৩৭, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নদভীর পরাজয়ে মদিনায় সাতকানিয়াবাসীর আনন্দ-ভোজন

এমপি নদভী

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী পরাজিত হওয়ায় দুই উপজেলার মানুষদের অনেকের মুখেই ফুটেছে হাসি। সেই খুশির রেশ কিনা পৌঁছে গেছে ‘সাত সমুদ্র তেরো নদীর’ ওপারে সৌদি আরবের মদিনা শহরে। পবিত্র নগরীতে বসবাসরত সাতকানিয়াবাসী নদভীর পরাজয় উদযাপন করেছেন আনন্দ ভোজন করে।

নদভীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ‘নির্যাতিত মধ্যম মাদার্শা ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে আনন্দ ভোজনের সিদ্ধান্ত নেন প্রবাসীরা। যেই কথা সেই কাজ। এরপর হয়ে গেল আনন্দভোজন। সম্প্রতি হওয়া আনন্দ ভোজনের কিছু ছবি ও ভিডিও এসেছে আজকের সারাদেশের হাতে। সেসব ভিডিওতে শতাধিক মানুষকে একযোগে আনন্দ-উৎসব করে ভোজন করতে দেখা যায়।

ভোজনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমপি নেজামুদ্দীন নদভীর নির্যাতনে একটা সময় তাদের পরিবার পরিজন ছেড়ে পাড়ি দিতে হয় দেশের বাইরে। দেশ ছাড়ার এতবছর পরও তারা তাকিয়ে ছিলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। তাই নদভীর পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন মদিনায় অবস্থান করা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগড়া অঞ্চলের মানুষেরা।

আব্দুর রহমান নামে এক সৌদি প্রবাসী বলেন, আমার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নে। আমার জায়গা সম্পত্তি নিয়ে কিছু ঝামেলা ছিল। আমি এ বিষয়টি মিমাংসার জন্য তৎকালীন এমপি নদভীর কাছে যাই। তিনি বিষয়টি সমাধান না করে উল্টো আমার এবং আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন চালান। পরে আমি বাধ্য হয়ে সৌদি চলে আসি।

আব্দুর রহমান আরও বলেন, শুধু আমি নই, আমার মত হাজারও সাতকানিয়ার মানুষ নদভীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে নদভী পরাজিত হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। তাই আমরা সৌদি আরবের মদিনাতে একটি আনন্দ উৎসবের আয়োজন করেছি।

লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, একসময়ের শান্তির গ্রাম লোহাগাড়া। যখন থেকে নদভী ক্ষমতায় আসে তখন থেকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অশান্তিতে পরিণত হয়। নদভী ও তার স্ত্রী রিজিয়া মিলে লোহাগাড়ায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। নির্বাচনে নদভী পরাজিত হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। তাই আমরা প্রবাসীরা মিলে আনন্দ উৎসব করেছি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নেজামুদ্দীন নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী বিভিন্ন প্রচারণায় কুরআন হাদীস ও সওয়াবের নিয়তে স্বামীর পক্ষে ভোট চান। যদিও নিজে কুরআন সুন্নাহর আলোকে ভোট চাইলেও রিজিয়া রেজার মেয়ে জাইমা তারান্নুম নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে ভিডিও নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। তাই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এমপি নদভীর পরিবারকে। যার রেশ দেখা গেছে ভোটের ফলে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মোতালেবের কাছে বিপুল ভোটে হারেন দুইবারের সংসদ সদস্য নেজামুদ্দিন নদভী। নদভীর হারের পর ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন নদভী ও তার অনুসারীদের হাতে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষেরা। সেটিরই একটি প্রতীকি চিত্র যেন-এই আনন্দভোজন।

আজকের সারাদেশ/এমএইচ