সকাল ৭:৫৮, শুক্রবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংগ্রাম থেকে ছেলেকে ‘মুক্তি’ দিয়ে চলে গেলেন মুস্তাকিমের মা

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

‘আমার ছেলে অপরাধী হলে মেনে নিতাম। ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছেলেকে কারাগারে যেতে হলো। ছেলের মুক্তি না হলে আমাকেও কারাগারে নিয়ে যান। ছেলে ছাড়া এই দুনিয়াতে আমার আর কেউ নেই।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামায় ছেলে মোহাম্মদ মুস্তাকিমকে জেলে যেতে হওয়ায় গণমাধ্যমকে এই কথাগুলো বলেছিলেন অসহায় মা নাসরিন আক্তার।

একমাত্র ছেলেকে আকড়ে এত বছর ধরে বেঁচে থাকা সেই বিধবা মা নাসরিন আক্তার আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। ছেলেকে সব সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিয়ে এই মা জীবন থেকে অতীত হয়ে গেলেন মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর পাঁচটায়। চট্টগ্রাম নগরীর একটি ক্লিনিকে মারা যান ৫৬ বছরের এই নারী। এখন থেকে মুস্তাকিমকে আর মাকে নিয়ে চমেক হাসপাতালে দৌড়তে হবে না ডায়ালাইসিসের জন্য, নামতে হবে না আর ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলনে।

সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করাতে হতো কিডনি রোগী নাসরিন আক্তারকে। গত আট বছর ধরে এভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নাসরিন। আর তাঁর এই লড়াইয়ের পেছনে ছিল একমাত্র সন্তান মাদ্রাসাপড়ুয়া মুস্তাকিমের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। তাঁর টিউশনির টাকাতেই চলত নাসরিন আক্তারের ডায়ালাইসিসের খরচ, পরিবারের ভরণপোষণ।

গত বছরের শুরুতে চমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধি ও সরকারিভাবে ভর্তুকি ফি কমিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন কিডনি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। স্বজনদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এমনই এক মঙ্গলবারে (১০ জানুয়ারি, ২০২৩) মুস্তাকিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। একমাত্র ছেলে কারাগারে গেলে চরম বিপদে পড়েন নাসরিন আক্তার। তখন পুলিশ হেফাজতে
পাঁচলাইশ থানার তখনকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন মজুমদারের নির্দেশে মুস্তাকিমের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
এরপর ওসি এবং এস আই আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন মুস্তাকিম। মামলার পর ওসি নাজিম ও এসআই আব্দুল আজিজ চলে যান দীর্ঘ তিন মাসের ছুটিতে। পরে অবশ্য ওসিকে পাঁচলাইশ থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নাসরিনের গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ির উপজেলার ধর্মপুরে। প্রবাসী স্বামী খালেদ আজম ২০১৪ সালে মারা যান। তাঁর দুই সন্তানের অন্যজন ১১ বছর বয়সী প্রতিবন্দ্বী মেয়ে। সন্তানদের নিয়ে হাটহাজারীর লালিয়ারহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন নাসরিন। মা ও বোনকে দেখাশোনা করতেন মুস্তাকিম। এখন মা যেন সব সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিলেন মুস্তাকিমকে।

মুস্তাকিম জেলে যাওয়ার পর তাঁকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়ান বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচএআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। তিনিই মুস্তাকিমের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে নির্যাতিত কিডনি রোগীর স্বজন সেই মুস্তাকিমের মা জননী নাসরিন আক্তার একটি ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেছেন। ফটিকছড়ি আজাদী বাজার সংলগ্ন পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।’

আজকের সারাদেশ /একে

সর্বশেষ সংবাদ

৫ কোটি টাকার পার্ক কাজে লেগেছে মাত্র ১ দিন, ১২ কোটি টাকায় ফের সংস্কার

বেনজিরের ‘বেনজির’ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অনড় কুবি শিক্ষক সমিতি

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম