রাত ৮:৩১, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘মা ডাক আর শুনব না ভেবেছিলাম, আল্লাহ ফের মা ডাক শোনালেন’

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

সাগরের নোনা পানিতে টানা ১২দিন ভাসতে থাকায় কুঁকড়ে গিয়েছে শরীরের চামড়া। পুড়ে হয়ে গেছে ফ্যাকাশে। উশকো খুশকো চুল। টান-টান চেহেরা নিয়ে যাওয়া সেই মুখে গজিয়েছে ছোট-বড় সহস্র দাড়ি। তবুও ‘অচেনা’ বাবাকে চিনতে একটুও ভুল হলো না তিন বছরের শিশুটির। জালাল উদ্দিন বাড়ির সামনে আসতেই দৌড়ে কোলে উঠে যায় সে। এরপর একজন আরেকজনকে বুকে জড়িয়ে শুরু করেন বিলাপ। এই কান্নার নাম অবশ্যই ‘আনন্দাশ্রু।’

বাবা-ছেলের পুনর্মিলনীর এই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। জালাল উদ্দিনসহ ১৩ মাঝিমাল্লা আনোয়ারা উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে। এক দিন পর গভীর সমুদ্রে তাঁদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ। স্বজনেরা এরপর ধরেই নেন, আর হয়তো ফিরে আসবে না প্রিয়জন। তবুও সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেই যাচ্ছিলেন। তাঁদের সেই প্রার্থনা যেন কবুল হলো! বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ১৩ মাঝিমাল্লা ফিরে এসেছেন নিজের বাড়িতে, স্বজনদের বাহুডোরে।

গত ৩ জানুয়ারি এফ বি মা জননী নামের ট্রলারটি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান এই জেলেরা। ওই দিন রাতে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সেই থেকে সাগরে ভাসছিলেন তারা। কূল-কিনারাহীন সাগরে হারিয়ে যান তারা, ফুরিয়ে আসে খাবারও। গভীর সাগরে চরম সংকটে পড়ে যান জেলেরা। এভাবে ভাসতে ভাসতে একসময় দেশের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে মিয়ানমার জলসীমায় পৌঁছে যায় ট্রলারটি। প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার না হওয়ায় একসময় বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন জেলেরা। তবে তাঁদের এমন দুর্দিনে এগিয়ে আসেন মিয়ানমারের কিছু জেলে। বাংলাদেশের জেলেদের উদ্ধার করেন মিয়ানমারের ওই জেলেরা। এরপর মিয়ানমার নৌবাহিনী খবর দেয় বাংলাদেশের কোস্টগার্ডকে। আট দিন পর গত রোববার রাতে তাঁদের টেকনাফ উপকূলে নিয়ে আসে কোস্টগার্ড। সেন্টমার্টিনের কোস্ট গার্ড জেটিতে ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজ শেষে সেই ট্রলারে করেই আনোয়ারায় ফিরে আসলেন জেলেরা।

হারিয়ে যাওয়া জেলেরা ফিরে আসায় তাঁদের পরিবারের মধ্যে বইছে খুশির বন্যা। বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েও ফের জীবন ফিরে পাওয়া জেলেদের মুখেও মা-বাবা, ভাই-বোন আর স্ত্রী-সন্তানদের ফিরে পেয়ে ফুটেছে আনন্দের হাসি।’

কান্না কিছুটা সংক্রমিত হলে জেলে জালাল উদ্দিন বললেন, ‘ট্রলারের খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় চারদিন কিছু খেতে পারিনি। চারপাশে পানি, বড় বড় ঢেউ। ভাসতে ভাসতে শুধু আল্লাহ আর মা-বাবাকে স্মরণ করছিলাম। ভেবেছিলাম আর বাঁচব না। অবশেষে আল্লাহর দয়ায় ফের জীবন পেলাম।’
জালাল উদ্দিনের মাও উচ্ছ্বসিত ছেলেকে ফিরে পেয়ে। বললেন, ‘আমার আনন্দের আর সীমা নেই। মা ডাক আর শুনব না ভেবেছিলাম, আল্লাহ আমাকে ফের মা ডাক শোনালেন।’

মাঝিমাল্লারা ফিরে আসায় উৎকণ্ঠা দূর হয়েছে ট্রলারের মালিক ওবায়দুল হক মুন্নারও। তিনি বলেন, ‘টেকনাফের দুই জেলেসহ আমাদের ট্রলারে ১৫ জন জেলে ছিলেন। জেলেরা তাঁদের ঘরে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসায় মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
সাগরে একটানা ১২দিন বাঁচামরার যুদ্ধ চললেও সেই সাগরেই ফের ফিরতে চান জেলেরা। উদ্ধার হওয়া আরেক জেলে মো. কালু মিয়া বললেন সেটিই, ‘এই যাত্রায় সাগর আমাদের প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে গেলেও এই সাগরই তো বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের। সাগরে না গেলে খাব কি, স্ত্রী-সন্তানেরা কি খাবে? সাগরে মাছ ধরি বলেই তো তিন বেলা খেতে পারছি।’

তবে এখনি সাগর নয়। আপাতত ক্লান্ত শ্রান্ত জেলেদের সময়টা কাটছে লম্বা ঘুম আর সন্তানদের জড়িয়ে ধরে ‘পুনর্জন্ম’ উদযাপনে!

আজকের সারাদেশ/এমএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনের মালিক রাশিয়া

এভারকেয়ার হসপিটাল শিশু হৃদরোগ বিভাগের আয়োজনে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

২ লিটারের বেশি পানি না নিতে নোটিশ দিল চবির শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট

উপজেলা নির্বাচন: হাটহাজারিতে ২ পক্ষের সংঘর্ষ

২৬ মে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, ব্যাপক বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

ইসরায়েলের যুদ্ধ সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে দেয়নি স্পেন

রাইসিকে ‘তেহরানের জল্লাদ’ বললেন ইহুদি নেতা, উচ্ছ্বাসের ঝড়

শাহ আমানত বিমানবন্দরে তথ্য কর্ণার চালু

শততম জাহাজে উড়তে যাচ্ছে লাল-সবুজের পতাকা

রাইসিসহ বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি