সকাল ৮:০০, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত যত ভুল

মাহমুদ হাসান। আজকের সারাদেশ

কখনো নামের বানান, কখনো বা ছবি, আবার কখনো শিল্পীর নামে কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে- এভাবে একের পর এক ভুল করে বারবার পত্রপত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। চবির এমন কিছু আলোচিত ভুল তুলে ধরবো আজ।

বিজয় দিবসের ব্যানারে শহীদ মিনারের ছবি:
২০২০ সালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিজয় দিবসের ব্যানারে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে নির্মিত শহীদ মিনারের ছবি স্থান পায়। যা ক্যাম্পাসজুড়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার নিজেও।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, শহীদ মিনার বাংলাদেশের চেতনার অংশ হলেও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সেটার ছবি বেমানান। কেননা সেটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যদিও অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কথা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ।

ভুল বানানে হল উদ্বোধন:
২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর একসঙ্গে দুইটি আবাসিক হল উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হল দুটির উদ্বোধন ফলকের একটিতে ‘অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলে’র নামে ভুল বানান দেখা যায়। ফলকটিতে লেখা হয় ‘অতীশ দীপঙ্কর শ্রীঞ্জান হলে ছাত্রদের আবাসনের শুভ উদ্বোধন’। সেখানে ‘শ্রীজ্ঞান’ এর জায়গায় লেখা হয় ‘শ্রীঞ্জান’। যা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

বঙ্গবন্ধু টানেলের স্থলে এলিজাবেথ টানেলের ছবি:
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন বছরের অফিসিয়াল ডায়েরিতে স্থান পায় একটি টানেলের ছবি। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া প্রদেশের এলিজাবেথ রিভার টানেলের ছবি। ডায়েরির শেষ দুই পৃষ্ঠাজুড়ে ব্যবহার করা হয় সেই ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, এটি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তৈরি বঙ্গবন্ধু টানেলের ভেতরের ছবি। এ নিয়ে চলে সমালোচনা ও বিতর্ক। তবে পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে কর্তৃপক্ষ ডায়েরিটি প্রত্যাহার ও সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং নিজেদের ভুল শিকার করে দুঃখ প্রকাশ করে।

শিল্পীর নাম ভুল:
২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য তৈরি করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্যালেন্ডারে ব্যবহৃত এক ছবিতে দেখা যায় অংকন শিল্পীর নাম ভুল করা হয়। যা নিয়ে চলে আলোচনা-সমালোচনা। হাতে আঁকা ছবিটির শিল্পী চবির সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হানিফ মিয়ার মেয়ে অদ্রি মিয়ান। সেখানে তার পরিবর্তে ছবিটিতে শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয় চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ নিশিতা হক মিমহা’র নাম। এছাড়া জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ক্রেস্ট এবং সনদপত্রেও শিল্পী এবং তার মায়ের নামের বানানে ভুল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্বাধীনতা বানান ভুল:
২০২৩ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বঙ্গবন্ধু পরিষদ। ‘স্বাধীনতা’ শব্দটির ভুল বানানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। যেখানে লেখা ছিলো ‘স্বাধীনতনার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি’। অর্থাৎ স্বাধীনতা বানান ভুল করে লেখা হয় ‘স্বাধীনতনা’। যেটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে সংগঠনি।

বুদ্ধিজীবী বানান ভুল:
২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে দেওয়া পুষ্পস্তবকে ‘বুদ্ধিজীবী’ বানান ভুলভ লিখে চবির বঙ্গবন্ধু পরিষদ। পুষ্পস্তবকে দেখা যায়, বুদ্ধিজীবী বানানটি এভাবে (বুদ্ধিজীবি) দুইবার লেখা হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের নজরে আসার পর অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বানান ভুল:
বুদ্ধিজীবী দিবসের পুষ্পস্তবকে বুদ্ধিজীবী বানানটি ভুলভাবে লেখার ২ দিনের মাথায় বিজয় দিবসের পুষ্পস্তবকে আবারও ভুল করে সংগঠনটি। স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরালে মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে দেওয়া পুষ্পস্তবকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটির বানানে লেখা হয় ‘মুক্তিযোদ্ধ’।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল:
২০১৯ সালে চবির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষ বিএসএস (সম্মান) ৪০৫ নম্বর কোর্সের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে স্বয়ং চট্টগ্রাম বানানসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বানান ভুল করে বিভাগটি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বানানে চট্টগ্রামের বানান ভুল লেখা হয়। যেখানে শুদ্ধ বানান হবে ট+ট= ট্ট, সেখানে লেখা হয়েছে ট+র ফলা= ট্র। এছাড়া আরও ১০ টি প্রশ্নে ভুল করে বিভাগটি।

আজকের সারাদেশ/এমএইচ