সকাল ৮:৩৭, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাঘ বাড়ছে সুন্দরবনে

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

আবারও বাঘ বাড়তে শুরু করেছে সুন্দরবনের খুলনা অংশে। গতবার ওই এলাকার প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ করে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র দুটি বাঘ। চলতি বছর শুরু হওয়া বাঘ জরিপে খুলনা অংশে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫টি বাঘ দেখা গেছে। দুই বাচ্চাসহ বাঘের একাধিক পরিবারও দেখা গেছে।

সুন্দরবনের প্রায় চার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় চলমান জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে বন বিভাগ এসব তথ্য পেয়েছে। বন বিভাগের জরিপকারী দলটি বলছে, সাধারণত সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে সব সময়ই বাঘ বেশি দেখা যায়। এবার সেখানেও গতবারের চেয়ে বেশি বাঘ দেখা গেছে। শিশু বাঘের সংখ্যাও গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে গতবারের চেয়ে এবার সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে।

বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বাঘ গণনা করা হচ্ছে। গত বছরের ২৩ মার্চ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় সুন্দরবনের বাঘ স্থানান্তর, অন্তত দুটি বাঘের শরীরে স্যাটেলাইট কলার স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ, বাঘের পরজীবী সংক্রমণ ও অন্যান্য ব্যাধি এবং মাত্রা নির্ণয়, উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের পুরো জরিপ চলতি বছরের আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসের (২৯ জুলাই) আগে শেষ হবে। ওই সময়ের মধ্যে আমরা জরিপের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করব।’

২০০৪ সালে প্রথম বন বিভাগ ও আইইউসিএন যৌথভাবে সুন্দরবনে বাঘশুমারি করে। পায়ের ছাপ গুনে করা ওই জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ৪৪০। পরে ২০১৫ সালে প্রথম ক্যামেরা ফাঁদ ব্যবহার করে বাঘের ছবি তুলে এবং পায়ের ছাপ গণনা করে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে বাঘের ওপর জরিপ চালানো হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বনভূমি ৪ হাজার ৮৩২ এবং জলাভূমি ১ হাজার ১৮৫ বর্গকিলোমিটার। ১৯৯৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই বনভূমির স্থলে ২৮৯ প্রজাতির প্রাণী আর জলে ২১৯ প্রজাতির প্রাণী বাস করে। ২০১৫ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি। আর ২০১৮ সালের শুমারিতে ছিল ১১৪টি।

আজকের সারাদেশ/একে