সকাল ৮:৫১, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোটর ব্লগারের প্রেমে মালয়েশিয়ান গাড়ি উৎপাদন কোম্পানির কর্মকর্তা ‘রুহি’ বাংলাদেশে

মোটর ব্লগারের প্রেমের টানে মালয়েশিয়ার গাড়ি উৎপাদন কোম্পানির কর্মকর্তা ‘রুহি’ বাংলাদেশে

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

২০১৮ সালে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যান জাহিদ। সেখানে একটি খেলনার দোকানে সেলসম্যান হিসেবে চাকরির পাশাপাশি ইউটিউবে ‘জাহিদ খান’ নামে খুলেন একটি ব্লগ। নিজের মোটর বাইক দিয়ে বিভিন্ন মানুষের ফটো আর ভিডিও তৈরি করে দিতেন ইউটিউবের সেই ব্লগে। সেই সূত্রে পরিচয় মালয়শিয়ার নাগরিক রুহি রুহানার সঙ্গে। তিনি পেশায় একটি গাড়ি উৎপাদন কোম্পানির প্রসাশনিক কর্মকর্তা। তারপর থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুজনের। দীর্ঘ ২ বছর সম্পর্কের পর সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। এরপর ভালোবাসার টানে জাহিদের সঙ্গে রুহি চলে আসেন নরসিংদী।

গত ২২ জানুয়ারি মুসলিম রীতি অনুয়ায়ী বাঙালি সাজে হয়েছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছিল গায়ে হলুদসহ বিয়ের নানা আয়োজন।

জাহিদ খান নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, প্রথমে তরুণীর পরিবার রাজি না হলেও পরে মালয়েশিয়ায় তাদের বিয়ে হয়। সেখানে জাহিদের পরিবারের লোকজন না থাকায় প্রেমিক জাহিদের সঙ্গে (১৫ জানুয়ারি) মালয়শিয়া থেকে নরসিংদীর হাজিপুরে চলে আসেন এ তরুণী। পরে গত সোমবার তাদের দু’জনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

জাহিদের ভাই আশিক আহাম্মেদ বলেন, তিনি খুব দ্রুত আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে না তিনি ভিনদেশি কোনো নাগরিক, মনে হচ্ছে তিনি আমাদেরই আপনজন।

মালয়েশিয়ান তরুণী রুহি রুহানা বলেন, ফটোশুট করতে গিয়ে পরিচয়, সেখান থেকে ভালোবাসা শুরু। আমাদের তিনবছরের প্রেমের সম্পর্ক। সে মানুষ হিসেবে খুব ভালো। সে আমার খুব যত্ন করে। তার কাছে ভাষা, খাবার এবং দেশ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। মালয়েশিয়ায় বিয়ে হলেও ওদের পরিবারের কেউ না থাকায় আমরা আবার বিয়ে করেছি। নিজের পরিবারকে মিস করলেও এত বড় পরিবারে ভালোবাসা পেয়েছি। আমার বাংলাদেশের সবকিছু অনেক ভালো লাগে।

জাহিদ হাসান বলেন, আমি ৬ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছি। মোটর বাইক দিয়ে ফটো সুট করার বাহানায় তার সঙ্গে পরিচয় হয় পরে আমরা সম্পর্কে জড়িয়ে যাই। রুহির পরিবার ভিনদেশি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রথমে মেনে নিতে চায়নি। পরে সে বুঝালে তার পরিবার মেনে নেয়। রুহি আমাকে ভালোবেসে ভাষা শিখেছে। তাকে মালয়েশিয়ান বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নিয়ে বাংলাদেশি খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছি। পরে তাকে দেশে নিয়ে এসেছি। এখন তাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখাব। যাতে সে দেশের মানুষ ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।

আজকের সারাদেশ/এমএইচ