সন্ধ্যা ৭:৪৭, সোমবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চার যুগ আগে বাবার কেনা শেয়ারে হঠাৎ কোটিপতি বৃদ্ধা

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

সাড়ে ৪ যুগ আগের কথা। সেসময় তখনকার নতুন শিল্পগোষ্ঠী আইটিসি লিমিটেডের ৪২০টি শেয়ার কিনেছিলেন ভারতের রাঁচির হাতিয়ার বাসিন্দা এক বয়স্ক ভদ্রলোক। এরপর ওই বৃদ্ধ ও তার স্বজনরা ভুলে যান সেসব শেয়ারের কথা। এরমধ্যে দীর্ঘ সময়ে বোনাস এবং শেয়ার বিভাজনের ফলে ২০১৭ সালে ওই ৪২০টি শেয়ার পরিণত হয় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮০টি শেয়ারে। আর তখন এই শেয়ারগুলোর মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ৬ কোটি রুপিরও বেশি।       

ততদিনে সেই বৃদ্ধ মারা গেছেন। এমনকি এক মেয়ে উষা (ছদ্মনাম) ছাড়া সেই বৃদ্ধের আর কোনো স্বজনও নেই। আর তার মেয়ে নিজেও বৃদ্ধা এখন।

এই বিপুল সম্পত্তির দাবি আদায় করা সহজ হয়নি ঊষার জন্য। এর জন্য রাঁচির হাতিয়ার বাসিন্দা ঊষাকে পেরোতে হয়েছে জটিল আইনি বাধা।

শেয়ারগুলোর দাম অনেক বেশি হওয়ায় সেগুলো ঊষা শর্মার নামে স্থানান্তর করার জন্য কোনো উপযুক্ত আদালত থেকে উত্তরাধিকারের সনদ (সাকসেশন সার্টিফিকেট) জোগাড় করার প্রয়োজন ছিল। এ প্রক্রিয়া শুরু হয় হরিদ্বারের আদালতে। ঊষার মতো একজন বয়স্ক নারীর জন্য রাঁচি থেকে এত দূরে যাতায়াত করে আদালতে হাজিরা দেওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তবে অবশেষে আইনি জটিলতা পেরিয়ে উত্তরাধিকারের সনদ সংগ্রহ করেন ঊষা।

উত্তরাধিকারের সনদ জোগাড়ের পর শুধু বাকি ছিল আইটিসি থেকে শেয়ারগুলো বুঝে পাওয়া। এটাও আরেকটা বড় বাধা হয়ে এসেছিল ঊষার জন্য। এর জন্য প্রচুর কাগজপত্রের প্রয়োজন ছিল।

শেয়ার স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ ও নথি জোগাড়ের পরও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয় ঊষাকে।

এ পর্যায়ে এসে বাইরের কারও সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঊষার ছেলে সঞ্জয় (ছদ্মনাম)। শেয়ার সমাধান নামে একটি বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সুরক্ষা তহবিল (আইইপিএফ) প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। ঊষার যে ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন, ওইসব কাজ সামলানোতে বিশেষভাবে দক্ষ কোম্পানিটি।

শেয়ার সমাধান প্রথমেই উত্তরাধিকার সনদে ঊষার বাবার নাম যোগ করে সনদটি হিন্দি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের মতো কাজগুলো হালনাগাদ করে নেয়। তারপর আইটিসিকে শেয়ার স্থানান্তরের জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু তারপরও আইটিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

এরপর আরও কয়েক মাস কাজ করতে হয় শেয়ার সমাধানকে। কোম্পানিটি ঊষা শর্মার পক্ষ থেকে আইটিসিতে ফোন করে, চিঠি ও ইমেইল পাঠায়। এমনকি আইটিসির অফিসেও যায় তাদের টিম।

অবশেষে, পাঁচ মাস পর আসে সাফল্য। শেষতক মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮০টি ইকুইটি শেয়ার ঊষার নামে স্থানান্তর করে। বাবার রেখে যাওয়া ৪২০টি শেয়ারের বদৌলতে ঊষা এখন কোটিপতি।

আজকের সারাদেশ/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ