রাত ৪:১৬, মঙ্গলবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গরিবের জুতার বাজার

হাবীব আরাফাত, চট্টগ্রাম
নগরীর অগ্রাবাদে আখতারুজ্জামান সেন্টার থেকে পূর্বদিকের সড়ক ধরে এগুতেই চোখে পড়বে ফুটপাতে সাজিয়ে রাখা কয়েকটা জুতার দোকান। এসব দোকানের সামনে দাড়িয়ে ডানপাশে তাকাতেই চোখে পড়বে গলির দুপাশে সাজিয়ে রাখা আরও কয়েক ডজন দোকান। হাতে গোনা কয়েকটা ছাড়া এখানকার প্রায় সব দোকানই ভাসমান। স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী নগরীতে এটাই সবচেয়ে বড় ভাসমান জুতার বাজার। শহরের নানা নামিদামি ব্র্যান্ডের বাইরে অল্প দামে টেকসই জুতা মেলে এখানে। তাই কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে নিন্ম ও মধ্য আয়ের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই বাজার।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ‘গরিবের জুতার বাজার’ নামে পরিচিত এই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরণের জুতার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ভাসমান বিক্রেতারা। তাদের সামনে ভীড় করেছেন নানা বয়সী ক্রেতা। পছন্দের জুতা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি করছেন তারা। তাদের একজন রুদ্র দে। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়া রুদ্র গেল কয়েকবছর ধরে এই বাজার থেকেই ব্যবহারের জুতা কিনছেন। তিনি পূর্বকোনকে বলেন, আমি পড়াশোনার পাশাপাশি তিন বছর ধরে এখানে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। চাকরি শুরুর পর থেকে এখান থেকেই জুতা কিনি। কারণ এখানে বাছাই করে নিতে পারলে কম দামে ভালো জুতা পাওয়া যায়।

এসময় ভাসমান এই জুতার বাজারে কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে এসব দোকান। এখানকার প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থী ও নিন্ম আয়ের মানুষ। অধিকাংশ জুতার দামও তিনশ’ থেকে এক হাজারের মধ্যে। তবে বেশি দামের জুতাও রাখেন কিছু কিছু বিক্রেতা।

ভাসমান এই বাজারে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের লোগো বা স্টিকার স¤বলিত জুতাও দেখা যায়। আসল নকল বোঝার খুব একটা সুযোগ না থাকলেও ক্রেতাদের ধারণা এসব জুতা নকল। তবে বিক্রেতাদের দাবি সত্যিকারের ব্র্যান্ডের জুতা সিইপিজেডের বিভিন্ন কারখানা থেকে সংগ্রহ করেন তারা। তাই অনেকটা কম দামে বিক্রি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, মূলত বিভিন্ন কারখানা নামি দামি ব্র্যান্ডের জুতা তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করে। এরমধ্যে মধ্যে কিছু কিছু জুতা তৈরির পর বিভিন্ন কারনে বাতিল হয়। সেসব বাতিল জুতাই সংগ্রহ করে আগ্রাবাদের ভাসমান বাজরে বিক্রি করা হয়।

তবে কোনো কোনো বিক্রেতা বাহির থেকে সংগ্রহ করা জুতায় নকল লোগো বা স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করেন বলেও জানান তিনি।

তকিবুল ইসলাম নামের এক বিক্রেতা বলেন, এখানে আমি ৭ বছর ধরে ব্যবসা করছি। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জোড়া জুতা বিক্রি হয়। তবে সবচেয়ে জমজমাট হয় ইদের আগে। কারণ কম দামে এখানে ভালো জুতা পাওয়া যায় বলে তখন চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নতুন জুতা কিনতে আসেন। এখানকার জুতা টেকসই বলে অনেক ধনি ব্যক্তিও মাঝেমধ্যে এখানে জুতা কিনতে আসেন।

আব্দুর রহিম নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, কম দামে ভালো জুতার জন্য এই এলাকাটা বেশ বিখ্যাত। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা জুতার জন্য এই এলাকায় আসেন। এখানে তিনশ’ থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকার জুতাও পাওয়া যায়।

তবে নগরীর সবচেয়ে বড় এই ভাসমান জুতার দোকান থেকে জুতা কেনার ঝুঁকিও রয়েছে কিছু। বাছাই করে নিতে না পারলে এই বাজার থেকে জুতা কিনে ঠকতে হয় বলে ধারণা অনেকের। নাছির উদ্দিন নামের এক ক্রেতার অভিযোগ, এখান থেকে জুতা কিনে ঠকেছেন তিনি। বিক্রেতারা বিক্রির সময় বেশ সুনাম করলেও কেনার কয়েকদিন পরেই ছিঁড়ে গেছে তার জুতা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, অধিকাংশ জুতাই টেকসই, অভিযোগ যৎসামান্য। তাদের বিক্রি করা অধিকাংশ জুতাই আসে ভারত আর চীন থেকে। তবে স্থানীয় কারখানায় তৈরি জুতাও রাখেন কেউ কেউ।

ওই এলাকায় মোট ৭০ থেকে ৮০ জনের মত ভাসমান জুতা ব্যবসায়ী রয়েছেন বলেও জানান তারা।

আজকের সারাদেশ/০৭ফেব্রুয়ারি/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

সিলেটে বন্যার পানিতে ভেসে গেল লাখো মানুষের ঈদ আনন্দ

এবার সেন্টমার্টিনের অদূরে দেখা গেল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ

ঈদের জামাতে আচমকা পড়ে গেলেন আ জ ম নাছির, ধরে তুললেন নওফেল

বিশ্বকাপে ‘ডট বলের বিশ্বরেকর্ড’ তানজিম সাকিবের

বিশ্বকাপের রেকর্ড ভেঙে সুপার এইট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর থাকার নির্দেশ

২৪ মণ ওজনের ‘শান্ত’র দাম ৮ লাখ, কিনলেই ফ্রি ৩ মণের ‘অশান্ত’

ঈদের ছুটিতে মূল্যবান সম্পদ রেখে যেতে পারবেন থানায়: সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রামে সাড়ে ৩ লাখ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের প্রস্তুতি, মজুত রাখা হয়েছে ২১ হাজার টন লবণ

মাঝ নদীতে সন্তান প্রসব, মা-শিশুর আজীবন ভাড়া ফ্রি করল জাহাজ কর্তৃপক্ষ