সন্ধ্যা ৬:৪৩, সোমবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে কুকুরের আতঙ্ক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন!

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

সেন্টমার্টিন দ্বীপে কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক হাজার কুকুরের কান কেঁটে নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এতে করে কুকুরের প্রতি অমানবিকতার চিত্র ফুঁটে উঠেছে বলে অভিযোগ পরিবেশবাদিদের। তবে এটিকে নিষ্ঠুরতা নয় বলছে বিদ্যানন্দ।

স্থানীয়রা জানান, দ্বীপে জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এমন কার্যক্রম চলমান আছে। সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন জায়গায় ‘কানকাটা কুকুরগুলো বন্ধ্যাকৃত কুকুর’ লিখে সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার (কমিউনিকেশন) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপে কুকুর বেড়ে যাওয়ায় কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। আর বন্ধ্যাত্বকরণ কুকুর চেনার জন্যই তাদের কান কেটে দেওয়া হয়।’

এদিকে পরিবেশবাদিদের অনেকে বলেছেন, কুকুরের কান কেটে নেয়ার বিষয়টি অমানবিক ও অনৈতিক। বন্ধ্যাত্বকরণ করতে হলেই যে, সেই কুকুরের কান কেটে নিতে হবে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ খুবই নিন্দনীয়। কোনো প্রাণিকে জেনে-বুঝে বিকলাঙ্গ করে দেয়া আইনবহির্ভূত কাজ। কারণ আরও অনেক অসংখ্য স্থায়ী উপায় রয়েছে বন্ধ্যাত্বকরণের চিহ্ন দেয়ার।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কুকুরের কান কেটে চিহ্ন রাখার প্রবণতাটা সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে। কান না কেটে অন্য পদ্ধতিতে নিশ্চয় চিহ্নিত করা যায়। কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ হয়েছে তাদেরকে একটা বিশেষ রংয়ের কলার পরিয়েও এই বার্তা দেয়া যায় যে, এদের বন্ধ্যাত্বকরণ হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বন্ধ্যাত্বকরণের চিহ্ন হিসেবে কুকুরের কান কাটা যাবে না।’ ভবিষ্যতে যাতে কোনো কুকুরের কান কাটা না হয়-সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে এটি ‘নিষ্ঠুরতা নয়’ জানিয়ে প্রাণি অধিকারকর্মী রাকিবুল এমিল বলেন, ‘কুকুরকে বন্ধ্যাত্বকরণের পর কান কেটে চিহ্ন দিতে হয়। আমেরিকাসহ বিশ্বের বহু দেশ ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এটি ইন্টারন্যাশনাল সাইন। যেহেতু এনেসথেসিয়া প্রয়োগ করে কান কাটা হয় তাই কুকুর ব্যাথা পায় না। পরবর্তীতে ওষুধের মাধ্যমে ক্ষতও শুকিয়ে যায়। তাই কান কাটা একটি নিরাপদ প্রক্রিয়া। কান কাটার ফলে কুকুরের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয় সত্য। কিন্তু বড় পরিসরে উপকারিতা চিন্তা করলে তা সমস্যা মনে হবে না।’

আজকের সারাদেশ/একে

সর্বশেষ সংবাদ