সকাল ৭:১৪, শুক্রবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মা’কে ডাকতেই তৌফিকের ফোন কেড়ে নেয় দস্যুরা

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ২৩ নাবিকের একজন তৌফিক ইসলাম। খুলনা শহেরের সোনাডাঙ্গা এলাকার এই যুবক এমভি আব্দুল্লাহ জাহোজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার।

জাহাজটি দস্যুদের কবলে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকবার তিনি কথা বলেছিলেন পরিবারের সঙ্গে। সর্বশেষ তার কথা হয়েছিল বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে মা দিল আফরোজার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ছেলে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে কান্নাকাটি করছিল। আমাদের কাছে দোয়া চাচ্ছিল। বার বার ক্ষমাও চাচ্ছিল। আমি তাকে নানা রকমের দোয়া পড়তে অনুরোধ করি। একপর্যায়ে সে আমাকে মা বলে ডাক দিলে, সাড়া দেয়ার আগেই বুঝতে পারি, কে যেন তার ফোনটি কেড়ে নিয়েছে। তার পর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারিনি।’

ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছিল কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। পথে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন সোমালি জলদস্যুরা।

তৌফিক ইসলামের ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৫ বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী জোবাইদা নোমান আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

জোবাইদা বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে একবার কল দিয়ে জানিয়েছিল তাদের জাহাজে জলদস্যুরা আক্রমণ করছে। পরবর্তীতে কী হবে কিছুই বলতে পারছে না। তখন সে মা-বাবাকে না জানাতে অনুরোধ করেছিল, তবে পরে জানিয়েছিলাম।

‘পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে কল দিয়ে জানায় জলদস্যুরা তাদের জিম্মি করে ফেলেছে, সবাইকে ব্রিজ রুমে আটকে রাখছে। তার কিছুক্ষণ পর পুনরায় জানায়, জলদস্যুরা জাহাজসহ তাদেরকে সোমালিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে।’

২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনার ওই বাড়ি থেকে জাহাজে গিয়েছিলেন তৌফিক ইসলাম। চলতি বছরের কোরবানির ঈদের আগে তার বাড়িতে যাওয়া কথা।

জোবাইদা নোমান বলেন, “কান্নারত অবস্থায় আমার স্বামী বলেছেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে দিও। জলদস্যুরা আমাদের কী করবে বলতে পারছি না।’ ঘটনা জানার পরে আমাদের মেয়েটি বার বার কান্না করছে। ছোট ছেলেটির এখনও সেই বুঝ আসেনি।”

তৌফিক ইসলামের পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন জাহাজটির মালিক কেএসআরএম গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

তার চাচাত বোনের স্বামী সাব্বির হোসেন বলেন, তৌফিক ইসলামের বড় ভাই ঢাকাতে থাকেন। তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে জাহাজ মালিকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জিম্মি থাকা বাকি নাবিকদের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন, তবে ভারত মহাসাগর থেকে সোমালিয়ায় পৌঁছাতে কমপক্ষে তিন দিন সময় লাগবে। এর আগে হয়ত কিছু জানা যাবে না।

তৌফিকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৮ সালে ক্যাডেট হিসেবে জাহাজে চাকরি নেন তৌফিক। ২০২৩ সালে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তবে এখনও পদোন্নতি পাননি। বর্তমানে তিনি সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহাজের ক্রুদের মধ্যে আছেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চিফ অফিসার মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ খান, দ্বিতীয় কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, তৃতীয় কর্মকর্তা মো. তারেকুল ইসলাম, চতুর্থ প্রকৌশলী তানভীর আহমদ, এবি মো. আসিফুর রহমান, এবি সাজ্জাদ হোসেন, ওএস আইনুল হক, অয়েলার মোহাম্মদ শামসউদ্দিন, ফায়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শাকিল, চিফ কুক মো. শফিকুল ইসলাম ও জিএস মো. নূর উদ্দিন।

আজকের সারাদেশ/এএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

৫ কোটি টাকার পার্ক কাজে লেগেছে মাত্র ১ দিন, ১২ কোটি টাকায় ফের সংস্কার

বেনজিরের ‘বেনজির’ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অনড় কুবি শিক্ষক সমিতি

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম