সকাল ৭:৪০, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব দাবি’ বলে প্রত্যাখ্যানের আভাস দিল ইসরাইল

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

গাজা উপত্যকায় নতুন একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেশ করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটির রয়টার্সের দেখা একটি অনুলিপি অনুযায়ী, এতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের স্বাধীনতার বিনিময়ে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে হামাস ‘অবাস্তব’ দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাবটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

এদিকে হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের খসড়ার অনুলিপি ইতোমধ্যে ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এবং যুদ্ধের তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ— কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে হামাস বলছে, ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা যদি গাজায় ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে থেকে ৭০০ থেকে ১০০০ জনকে মুক্তি দেয়, তা হলে নিজেদের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

আরও বলা হয়েছে, যদি এই যুদ্ধবিরতি সফল হয়, তা হলে উভয়পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করবে।

তবে হামাস ‘অবাস্তব’ দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাবটি গঠন করেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।

শুক্রবার এ বিষয়ে একটি আপডেট দেশটির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এবং বর্ধিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

হামাসের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ কাতার ও মিসরের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রয়টার্সকে তারা বলেছেন, হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা— উভয়পক্ষের মধ্যকার যাবতীয় মতবিরোধ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তারা এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হামাসের কাছে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের খসড়া পাঠিয়েছিল মধ্যস্থতাকারী পক্ষ। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, গাজায় ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতি হবে এবং এর বিনিময়ে ইসরাইলের সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। আর প্রতি একজন জিম্মির মুক্তির পরিবর্তে কারাগার থেকে ১০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরাইল।

এই প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি মিসরের রাজধানী আঙ্কারায় একটি বৈঠকেও বসেছিল দুই পক্ষ। যদিও কোনো ফলাফল ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হয়েছে।

আজকের সারাদেশ/একে