সকাল ৬:৫৬, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেষ দিনেও নিয়মবহির্ভূত ৪৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

পাঁচ বছরে দায়িত্ব পালনের প্রায় প্রতিটি সময়ই আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য শিরীণ আখতার। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন অনিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ ইস্যুতে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ প্রতিনিয়তই লেগেছিল শিরীণ আখতারের বিরুদ্ধে। আর এসব অনিয়ম-অভিযোগ থেকে বের হতে পারেননি উপাচার্য হিসেবে নিজের শেষ কর্মদিবসেও।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার অধ্যায়। তবে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক মজুরি কিংবা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যে নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সেটিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের শেষ দিনে এসেও তিনি নিয়োগ দেয়া থেকে নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। এদিন দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে, হল ও দপ্তরে অন্তত ৪৪ জনকে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে গত তিন মাসে একই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। উপাচার্যের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষক সমিতি আন্দোলন শুরু হলে একের পর এক নিয়োগ দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নূর আহমদকে একাধিকবার ফোন করা হলে দুজনের কেউই কোনো প্রকার সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন বলেন, আমরা সিন্ডিকেট থেকে একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম যাতে করে কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তকে না মেনে তিনি নিজের মনগড়া নিয়োগ দিয়েই গেছেন। সিন্ডিকেটে কমিটি গঠনের ওই তারিখের পর থেকে যতগুলা এরকম নিয়োগ হয়েছে প্রত্যেকটাই অবৈধ।

ইউজিসির সদস্যের দায়িত্ব পালন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য মো.আবু তাহের সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের শেষ কর্মদিবসে নিয়োগের প্রসঙ্গে বলেন, এসব নিয়োগ আইনগত নয়। নিয়োগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সব পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এতে এসব নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শেষ সময়ে উপাচার্যদের নিয়োগের তৎপরতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম আবদুস সোবহান তাঁর শেষ কর্মদিবসে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ ১৩৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পরে এসব নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করে ইউজিসির তদন্ত কমিটি। অধ্যাপক শিরীণ আখতারের আগে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীও শেষ সময়ে এসে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাঁরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্মরত।

আজকের সারাদেশ/একে