সকাল ৬:৪৩, শুক্রবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রকৃত হকারদের জন্যই হবে ‘হলিডে মার্কেট’, চাঁদাবাজদের জন্য না: চসিক মেয়র রেজাউল

আজকের সারাদেশ সাক্ষাতকার:
মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমি হলিডে মার্কেটের ব্যবস্থা করে দিব, তাও ফুটপাতে না, আলাদা মাঠ বা খালি জায়গায়। আমি ব্যবস্থা করতেছি অলরেডি। আমার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তাও প্রকৃত হকারদের জন্য, চাঁদাবাজদের জন্য না। যারা হকার নামধারী, হকারদের নাম দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে তাদের জন্য না।

সাম্প্রতিক কিছু বিষয় নিয়ে বিশেষ করে ফুটপাত দখল নিয়ে এক সাক্ষাতকারে এসব বলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। নিচে সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: আপনার আগে যারা ছিলেন তারা ফুটপাত দখল মুক্তে সফল হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে। আপনি কি মনে করেন আপনি এই কাজে সফল হবেন?

মেয়র: অবশ্যই হবো। কারণ জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে জনগণের অধিকারকে সংরক্ষণ করার জন্য। ফুটপাত পথচারীদের জন্য। এটা কাউকে অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসার জন্য না।
এখানে ছাত্র-ছাত্রী, মহিলা, বৃদ্ধা, সকল শ্রেণির মানুষ নিরাপদে হাঁটাচলা করবে। এখানে যদি কেউ বাধাগ্রস্থ করে, অবশ্যই আমার নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে সেই ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে জনগণের অধিকার তাদের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সেই অধিকার নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন: এই বিষয়ে অনেক পুরনো অভিযোগ আছে এই ফুটপাত বাণিজ্যর সঙ্গে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি জড়িত আছে এবং এই ফুটপাতের বাণিজ্যর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সম্পৃক্ত। আরও অভিযোগ আছে যে অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রভাবশালী নেতারা এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকেন; এতগুলো প্রতিকূল পরিস্থিতিকে প্রতিহত করে আপনি কি মনে করেন আপনি সফল হবেন?

মেয়র: এই ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য আমি অত্যন্ত তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। ১৮-১৯ বছর বয়সে যখন কলেজে পড়তাম, বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিল আর সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলাম। তখন শুনতাম পাকিস্তানিরা খুবই ভয়ংকর এরা খুব দূরদর্শী পৃথিবীর সেরা সেনাবাহিনী। আমরা ছোট্ট তরুণ আমরা সামান্য পেরেক বাশের ট্রেনিং নিয়ে ওদের সাথে যুদ্ধ করবো? এটা করেছি একমাত্র মনোবল ছিল, দৃঢতা ছিল, নিষ্ঠা ছিল এবং সততা ছিল। আমি মনে করি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছে। এখানে কে প্রভাবশালী, কে প্রভাবশালী নয়, কে বড় নেতা, কে ছোট নেতা এগুলো আমি দেখবো না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় আপনাদের অবশ্যই মনে আছে মুসলিম ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হলে আমি সকল মানুষকে ডেকেছিলাম এবং আমি সেখানে সবার মতামত নিয়েছিলাম। আমি নিজেও বক্তব্য রেখেছিলাম। আমি বলেছি কোনো প্রভাব প্রতিপত্তি কোনো সময় আমাকে প্রভাবিত করতে পারবেনা, কারণ আমি একটা কমিটমেন্ট নিয়ে এখানে বসছি। মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে বসিয়েছে। আমি যদি এই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, মানুষ আমাকে ধিক্কার দিবে। আজকে ফুটপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আপনারাও দেখেছেন হকাররা চুড়ি-কাচ এগুলো মাথায় করে বিক্রি করতো। কেউ ফুটপাত দখল করে টিন কাপড় দিয়ে ঘেরাউ করে জনগণের হাটার রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ব্যবসা বাণিজ্য করবে সেটাতো হকার না।

প্রশ্ন: চট্টগ্রাম শহরে হকার নামে যারা রাস্তা এবং ফুটপাত দখল করেছে। আপনি যাদেরকে উচ্ছেদ করেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি ইতোমধ্যে অনেক রাস্তা দখল মুক্ত হলেও আবার তারা বসে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে তাদের কেউ ইন্ধন দিচ্ছে?

মেয়র : অবশ্যই তাদেরকে ইন্ধন দিচ্ছে। সব যুগে কিছু লোক থাকে, তারা ভালো কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এটা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। আমি মনে করি আপনি এখানে যে হকারের কথা বলছেন, তারা হকার না। আপনি ভ্যানগাড়ি একটা নিয়ে বসিয়ে দিয়ে বলছেন ‘এই তুই বিক্রি করবি’।

আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমি বহদ্দারহাটে হকার উচ্ছেদ করে দিয়েছি আজ থেকে ৭-৮ বছর আগে। সমস্ত রাস্তা ঘাট ক্লিয়ার পরে তাদের ছেলেমেয়েরা এসে আমাকে ধরে কাঁদছে। হকারকে জিজ্ঞেস করছি তুই দিনে কতটাকা ইনকাম করছ? তার বৌ বলে- স্যার ২ কজি চাল নিতে বললে সে নেয় এক থেকে দেড় কেজি। কেন? সে ৭-৮ শ টাকা ইনকাম করে, কিন্তু সে বললো- আমি ৭-৮’শ টাকা পাইনা। আমি বিভিন্নজনকে দিতে দিতে আমি বাসায় এক থেকে দেরশ টাকা নিয়ে যেতে পারি। অনেক চাঁদা দিতে হয়। নিউমার্কেট এলাকায় যারা ভ্যানগাড়ি বসায়, তারা কিন্তু হকার না। তারা সওদাগর। এরা গরীব কিছু লোককে পণ্য দিয়ে বসিয়ে দেয় ওরা সারাদিন বিক্রি করে দুই’শ টাকা পায়। মোটা অংকটা সওদাগর নিয়ে যায়।

প্রশ্ন: এই কাজে কোটি টাকার চাঁদাবাজি এবং একটা চক্র যুক্ত বলে মনে করেন কি?
মেয়র: অবশ্যই

প্রশ্ন: এও চক্রের সঙ্গে পেরে এঠা সম্ভব কি?
মেয়র: অবশ্যই সম্ভব। আমি একটা কথাই বলবো- আমি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য যেকোনও কিছু করতে প্রস্তুত। ফুটপাতমুক্ত থাকবে। যারা সত্যিকারের হকার, তাদেরকে চিহ্নিত করে আমি ‘হলিডে মার্কেট’ করবো। যেটা হবে হলিডেতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। ঐ সময় সমস্ত অফিস আদালত বন্ধ থাকে। আমি প্রকৃত হকারদের জন্য এমন কাজ করবো। চাঁদাবাজদের জন্য না, যারা হকারের নামে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, তাদের জন্য না।

এতবড় একটি সিটি কর্পোরেশনের দিকে নজর দেওয়ার মতো জনবল বা জনবল থাকলেও তাদের ক্ষমতা বা সদিচ্ছা আছে বলে মনে করেন কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে চসিক মেয়র বলেন, হঠাৎ আপনি একটি শহরকে পরিবর্তন করতে পারবেন না। ধীরে ধীরে আপনাকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যেমন অনেক গলি আছে যেখানে রিক্সা পর্যন্ত ঢুকতে পারে না। দুইপাশে ভ্যানগাড়ি বসে থাকে, আসলে এরা কিন্তু প্রকৃত হকার না, এখানে কিছু জমিদারও আছে।

পথচারীদের যাতায়াতের জন্য আরও ফুটওভার ব্রিজ করার পরিকল্পনা আছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই আছে, ইতোমধ্যে লালখান বাজারেরটা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওরা করে দিবে বলেছে। জিইসি, মুরাদপুর, ২ নং আমরা করছি। বহদ্দারহাট মোড়ে আন্ডারপাস অলরেডি নিজস্ব ফান্ডে শুরু করেছি। সাগরিকায় আন্ডারপাস হবে। আমরা প্রায় ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজের কাজ হাতে নিয়েছি।

আজকের সারাদেশ/এমএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

৫ কোটি টাকার পার্ক কাজে লেগেছে মাত্র ১ দিন, ১২ কোটি টাকায় ফের সংস্কার

বেনজিরের ‘বেনজির’ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অনড় কুবি শিক্ষক সমিতি

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম