রাত ১২:৫৮, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

প্রথম টেস্টে ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারার পর টেস্ট সিরিজ জিততে না পারলেও ড্র করার সুযোগ ছিল। অথবা দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করতে পারলে হারের ব্যবধানটা কিছুটা কমতো। কিন্তু তা তো হলোই না, উল্টো বড় ব্যবধানেই বাংলাদেশ দল হারলো দুই দুটি টেস্ট ম্যাচ।

শেষবেলায় লাহিরু কুমারার ইয়র্কার লেন্থের বলটা ঠেকাতে পারলেন না খালেদ আহমেদ, হয়ে গেলেন বোল্ড। আর এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার লম্বা সফর।

দুই টেস্টের সিরিজে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকতে না পারার আক্ষেপ তো থাকারই কথা। সেভাবে লড়াইটাও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতার দৃশ্যপটও সামনে এসেছে বারবার।  

ক্রিকেটারদের নিবেদন, মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ বিসিবি থেকেই। ইতিবাচকতা খুঁজে পাওয়া মুশকিল, তবুও হয়তো বোলিংয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে কিছুটা। তবে ব্যাটিং ও বাকি সবকিছু মিলিয়েই লম্বা একটা সতর্কবার্তা বাংলাদেশের জন্য- সামনে খেলতে হবে আরও অনেকগুলো টেস্ট।  

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯২ রানে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ৫৩১ রান করে তারা। পরের ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ১৭৮ রানে। ফলো অন না করিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৫৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে লঙ্কানরা। ৫১১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩১৮ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের ভাগ্য মূলত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। শেষদিনে বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। কত দ্রুত শ্রীলঙ্কা তুলে নিতে পারে বাংলাদেশের বাকি তিন উইকেট, অথবা ব্যবধান কতটুকু কমাতে পারেন মেহেদী হাসান মিরাজরা- সেটিই ছিল দেখার।  

সবমিলিয়ে শেষদিনে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মতো খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অর্জনে হাফ সেঞ্চুরি যোগ হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের নামের পাশে। তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদদের নিয়ে বেশ ভালো লড়াইও করেছেন তিনি।  

সকালে বাংলাদেশকে প্রথম আঘাত করেন কামিন্দু মেন্ডিস। তাইজুল ইসলামকে ফিরিয়ে টেস্টে প্রথমবার বল হাতে নেওয়া ইনিংসে তিন উইকেট পেলেন তিনি। ২৮ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফিরেন তাইজুল।  

এরপর মিরাজের সঙ্গী হন হাসান মাহমুদ। তিনি সঙ্গে থাকতেই হাফ সেঞ্চুরি ছুয়েও ছুটছিলেন মিরাজ। কিন্তু হাসানের ২৫ বলের ইনিংসের ইতি ঘটে লাহিরু কুমারার বলে। শরীর বরাবর আসা বাউন্সারে পাশেই হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে থাকা মাদুশকার হাতে ক্যাচ দেন তিনি।  

এরপর অপেক্ষা ছিল কতক্ষণ মেহেদী হাসান মিরাজ থাকতে পারেন বা করতে পারেন কত রান। তিনি ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথেই। কিন্তু ৮ বলে ২ রান করে খালেদ আউট হয়ে গেলে অপরাজিতই থাকতে হয় মিরাজকে। ১১০ বলে ৮১ রান করা মিরাজ পেলেন সেঞ্চুরির দেখা।


আজকের সারাদেশ/এমএইচ