রাত ১:৩০, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর মৃত্যু-শোক সইতে না পেরে স্বামীও মারা গেলেন, কবর হবে পাশাপাশি

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:
বহুদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন শামসুর নাহার। মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে মারা যান ৪৯ বছর বয়সী এই নারী। স্ত্রীর মৃত্যু খবর পেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী আমিন উল্যাহ। হৃদরোগে আক্রান্ত আমিনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। রাত ১১ টার দিকে মারা যান তিনিও।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার  চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের উপদ্দি লামছি গ্রামে। এখন স্বামী স্ত্রীর মরদেহ রাখা হয়েছে বাড়িতে। বুধবার সকালে পাশাপাশি দুটি কবরে তাঁদের দাফন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আমিন উল্যাহ (৬২) উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের উপদ্দি লামছি গ্রামের মিন্নত আলী বেপারী বাড়ির মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। তিনি চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ছিলেন।এক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) জসিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, গ্রাম পুলিশ আমিনের স্ত্রী শামসুর নাহার দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর চিকিৎসক শামসুর নাহারকে বাড়িতে পাঠালে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। এর এক কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর চিন্তায় স্ট্রোক করেন স্বামী আমিন উল্যাহ। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক ছিলেন।

ইউপি সদস্য আমিন উল্যাহ আরও বলেন,  স্ত্রীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তার স্বামী স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। সকাল ১০টার দিকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

স্বজনেরা জানিয়েছেন আমিন ও শামসুরের সংসারে অভাব থাকলেও ভালোবাসার কমতি ছিল না। সারাজীবন স্বামী-স্ত্রী যেন বাঁধা ছিলেন একই সুতোয়।
মৃত্যুর পথেও পাড়ি দিলেন একইসঙ্গে। কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে অন্য কোথায়, অন্য কোনখানে হয়তো আবারও দেখা হয়ে যাচ্ছে দুই অভিন্ন আত্মার!

আজকের সারাদেশ/টিএইচ/এমএইচ