রাত ১১:১৫, বুধবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাবাহারা মেয়ের অস্ত্রোপচারের জন্য জমানো টাকা পুড়ে ছাই, থামছে না মায়ের কান্না

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

দুই মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ নবম শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা দাশ। জ্বর থামছিলই না। কারণ খুঁজতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা গেল অর্পিতার পেটে বসতি গেড়েছে টিউমার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন দ্রুতই করতে হবে অস্ত্রোপচার। সেজন্য এখান থেকে ওখান থেকে নিয়ে টাকা জমাতে শুরু করেন চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে কর্মরত মা সুগন্ধা দাশ। ৫০ হাজার টাকা জমিয়ে বড় যত্নে রেখেছিলেন বাসায়। অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা মেয়েকে কিছুদিন ধরে ভর্তি করিয়েছেন হাসপাতালেও।

কিন্তু তার আগেই আগুন এসে কেড়ে নিয়েছে সুগন্ধার সব, মেয়ের অস্ত্রোপচারের টাকা। সেসব ভেবে কান্না থামছেই না এই মধ্যবয়সী নারীর। পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ঘরের সামনে বসে এই নারী বিলাপ করছিলেন, ‘আমি এখন কোথায় যাব, মেয়েকে কীভাবে অস্ত্রোপচার করাব।’

২০১৭ সালে স্বামী পরিমল দাশকে হারান সুগন্ধা। এরপর থেকে ছেলে ও মেয়ের কথা ভেবে আর বিয়েমুখী হননি। বড় ছেলের বয়স মাত্রই ২০। তিনি অবশ্য এখনো তেমন কিছু করেন না। আর ১৬ বছরের মেয়ে অর্পিতা নবম শ্রেণিতে পড়ছে পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। বন্দর হাসপাতালে দৈনন্দিন ভিত্তিতে কাজ করা মায়ের আয়েই চলছিল অর্পিতাদের সংসার। এর মধ্যে অর্পিতা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আরও বিপাকে পড়েন মা।

দুই সপ্তাহ আগে অর্পিতাকে ভর্তি করা হয় মায়ের কর্মস্থল বন্দর হাসপাতালে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অর্পিতার অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে একদিকে নিজের কাজ, অন্যদিকে মেয়েকে দেখভাল করা-দুটোই করছিলেন সুগন্দা। এমন সময় খবর পান তার বাসাসহ আশপাশের সব বাসা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। মেয়েকে হাসপাতালের বিছানায় রেখে দ্রুত আসলেও কিছুই বাঁচাতে পারেননি সুগন্ধা। তার আগেই পুড়ে গেছে বাসার সবকিছুই, মেয়ের অস্ত্রোপচারের জন্য রাখা ৫০ হাজার টাকাও।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার এয়াকুবনগর লইট্টাগাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া বাসায় বসে কেঁদেই চলেছেন সুগন্ধা দাশ। বোন এসে স্বান্ত্বনা দেওয়ার সব চেষ্টাই করছিলেন। কিন্তু কিছুতেই যেন থামছিল না সুগন্ধার কান্না। অস্ফুট স্বরে বলতে থাকেন, ‘ও মারে, ও বাপরে, আমার তো কিছুই রইল না।’

সোমবার দুপুরে হঠাৎ লাগা আগুনে এই এলাকার ৮৭টি কক্ষ পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া সেই কক্ষের একটিতে ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে থাকতেন সুগন্ধা।

ঘটনার সময় আমি বন্দর হাসপাতালে ছিলাম। একদিকে সেখানে ভর্তি থাকা মেয়েকে দেখতে হচ্ছিল, অন্যদিকে নিজের কাজও সারতে হচ্ছিল। আগুনের খবর পেয়ে মেয়েকে হাসপাতালে রেখে বাসায় এসে দেখি তিলে তিলে গড়ে তোলা আমার সবকিছুই ছাই।’

মেয়েকে এখন কীভাবে অস্ত্রোপচার করবেন, সেই ভাবনায় চোখে অন্ধকার দেখছেন সুগন্ধা। বললেন, ‘কত কষ্ট করে মেয়ের অস্ত্রোপচারের জন্য ৫০ হাজার টাকা জমিয়েছিলাম। আগুনে টাকাগুলোও পুড়ে গেছে। এখন আবার কোথায় টাকা পাব জানি না।’

এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের সামনে মায়ের কান্না। ওদিকে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে অর্পিতা।এক আগুন শুধু সুগন্ধাদের সব কেড়ে নেয়নি। অর্পিতার জীবনটাকেও ফেলে দিয়েছে বড়সড় ঝুঁকির মুখে!

আজকের সারাদেশ/টিএইচ/এমএইচ

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

কোরবানির বাজার: খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের রাজত্ব

চট্টগ্রামে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মানুষের মুক্তি কামনায় প্রার্থনা

চট্টগ্রাম বোর্ড: সচিবকে আটকাতে কর্মচারীদের ব্যবহার চেয়ারম্যানের!

ফেসবুক খুঁজে দিল ৩০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা তিন বান্ধবীকে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খুন হলেন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিম

‘জীবন বাজি রেখে রাজপথে যথেষ্ট ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা হাসানুল করিম মানিক’

তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনের মালিক রাশিয়া

এভারকেয়ার হসপিটাল শিশু হৃদরোগ বিভাগের আয়োজনে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

২ লিটারের বেশি পানি না নিতে নোটিশ দিল চবির শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট