রাত ১:৩৯, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাড়ে ৪ কোটি টাকায় নির্মিত কাজী মারুফের সিনেমার আয় কয়েক হাজার টাকা, দর্শক ছিল ১০-১২ জন

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

এই ঈদে মুক্তি পেয়েছিল কাজী মারুফ অভিনীত ও প্রযোজিত ‘গ্রিন কার্ড’ সিনেমাটি। মাল্টিপ্লেক্সে মাত্র দুটি শো এবং টাঙ্গাইল ও সখীপুরে মিলনায়তন ভাড়া করে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। অথচ মুক্তির তিন দিনের মাথায় আবার ছবিটি মাল্টিপ্লেক্স থেকে নামিয়েও ফেলা হয়েছে। এমনকি ছবিটির একেকটি শো’তে মাত্র ১০-১২ জন দর্শকও হয়েছিল। ছবিটির পরিচালক কাজী হায়াৎ ও রওশন আরা নিপা।

এ ব্যাপারে মারুফের বক্তব্য, ‘সিনেমাটিকে স্মার্ট করতে গিয়ে এত স্মার্ট করে ফেলেছি যে আমার যাঁরা সাধারণ ভক্ত-দর্শক ছিলেন, তাঁরাও সিনেমা দেখতে যাননি, আবার স্মার্ট দর্শকেরাও যাননি সিনেমাটি দেখতে। তা ছাড়া মাল্টিপ্লেক্স টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বসে বেশ সময় নিয়েই ‘গ্রিন কার্ড’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন মারুফ। ঈদ উৎসবে ছবিটি মুক্তি দিতে বড় প্রত্যাশা নিয়ে পরিবারসহ দেশে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ছবিটি মুক্তির সময় হলসংকটে পড়েন। একক হল পাননি। মাল্টিপ্লেক্সে মাত্র কয়েকটি শো পেয়েছিলেন। তাও তিন দিনের মাথায় নেমে যায়।

কিন্তু মুক্তির আগে আগে হল পাচ্ছিলেন না, তাহলে ঝুঁকি নিয়ে মুক্তি দিলেন কেন- প্রশ্নের জবাবে মারুফ বলেন, মাল্টিপ্লেক্সে যে কয়টি শো পেয়েছিলাম, বুঝিনি দর্শক হবে না। মাত্র ১০/১২ জন মিলে সিনেমা দেখলে তো প্রযোজকের পেট ভরবে না। এমন অবস্থা দেখে আমি নিজেই সিনেপ্লেক্সে ফোন করে আমার ছবি নামিয়ে দিতে বলেছি। কারণ, এমনিতেই মাল্টিপ্লেক্সে সিস্টেম জটিলতা আছে। আমার সিনেমার শোয়ের হলটি দর্শকে পরিপূর্ণ থাকলে কমিশন হিসাবে মাত্র ১৬ হাজার টাকা পাব আমি। প্রযোজকের সঙ্গে হলমালিকের টিকিটের টাকার ভাগাভাগির এই জটিলতা চলতে থাকলে, একটা সময় সিনেমা কেউ বানাবে না, সিনেমা থাকবে না।

মারুফের হিসাবমতে, ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘গ্রিন কার্ড’ মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে থেকে লাখ টাকাও আসেনি। ওটিটি, টেলিভিশনে বিক্রির পরও এত বিনিয়োগ ওঠার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। অনেকটাই হতাশ চিত্রনায়ক মারুফ বলেন, ‘আর বাংলা ছবি নির্মাণ করব না। এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে বিদেশি সিনেমার বানানোর চেষ্টা করব। আগামী ৩ মে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা আছে তাঁর।

আজকের সারাদেশ/এমএইচ