রাত ১২:০১, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিশ্বাসের সঙ্গে গিলে ফেলা নাকফুলের পিন আটকে গেল ফুসফুসে, এরপর…

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

ভুলবশত নাকফুলের পিন গিলে ফেলা হল। স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। কিন্তু ঘটল বিপত্তি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধাতব বস্তুটি আটকে গেল ফুসফুসে। শারীরিক জটিলতাসহ শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। পরে অবশ্য সার্জারির মাধ্যমে শরীর থেকে বের করলেন চিকিৎসকরা।

এমন ঘটনার শিকার হয়ে তৃক্ত অভিজ্ঞতায় দুমাস পার করেছিলেন ভারতীয় নাগরিক বর্ষা সাহু। মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের একজন পালমোনোলজিস্ট (ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের বিশেষজ্ঞ) ডা. দেবরাজ জাশ গত মাসে বর্ষার ফুসফুস থেকে পিনটি সরিয়েছিলেন। তিনি এটিকে ‘অত্যন্ত বিরল’ ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন।

বিবিসির সংবাদদাতাকে ৩৫ বছর বয়সী নারী বর্ষা সাহু জানান, তিনি প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে নাকফুল ব্যবহার করছেন। তিনি জানতাম না যে নাকফুলের পিনটি ঢিলে হয়ে এসেছিল। কথা বলতে বলতে আমি একটি দীর্ঘ নিশ্বাস নেওয়ার পরেই সেটি তিনি গিলে ফেলেন। তিনি জানতাম না যে এটি আমার ফুসফুসে চলে গেছে। তিনি ভেবেছিলাম সেটি পাকস্থলীতে চলে গেছে।

ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. দেবরাজ জাশ বলেন, “সাধারণত আমাদের কাছে এমন রোগী আসে যাদের ফুসফুসে শুকনো ফল অথবা পান চলে যায়। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে যারা আসে হয় তারা শিশু অথবা বৃদ্ধ। কিন্তু ৩০ বছরের বেশী বয়সী একজন মহিলা রোগীর বিষয়টি আসলেই ব্যতিক্রম।”

বিবিসি সংবাদে বলা হয়, পিন গিলে ফেলার এক মাস পরে বর্ষা অবিরত কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে একজন ডাক্তারের কাছে যান। প্রাথমিকভাবে শ্বাসকষ্টের জন্য তিনি পূর্ববর্তী নাকের আঘাতকে দায়ী করেন। যখন ওষুধে কোন কাজ হচ্ছিল না তখন তিনি একজন ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের বিশেষজ্ঞের কাছে সহায়তা চান। একটি সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তার ফুসফুসে থাকা পিনটি ধরা পরে এবং পরবর্তীতে বুকের এক্সরে করানোর মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করা হয়।

একটি সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তার ফুসফুসে থাকা পিনটি ধরা পরে। পরবর্তীতে বুকের এক্সরে করানোর মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্র ক্যামেরাযুক্ত একটি ফাইবারোপটিক ব্রঙ্কোস্কোপ দিয়ে চেষ্টা করা সত্ত্বেও পিনটি তার ফুসফুস থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। বর্ষাকে তখন ডা. জ্যাশের কাছে পাঠানো হলে যিনি পিনটি অপসারণের জন্য আবারো ফাইবারোপটিক ব্রঙ্কোস্কোপ দিয়ে চেষ্টা করেন।

দ্বিতীয়বার এ পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে ডা. জাশ বর্ষার সাথে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য জটিলতার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বর্ষাকে অস্ত্রোপচারও করতে হতে পারে এমন কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থাকতে পারে বলে তিনি ফাইবারোপটিক ব্রঙ্কোস্কোপ দিয়ে আরেকবার চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেন।

ডা. জাশ বলেন, “একটি নিয়মিত ফাইবারোপটিক ব্রঙ্কোস্কোপ দিয়ে একটি ধারালো বস্তু বের করা অত্যন্ত কঠিন। পিনটি তার ফুসফুসে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ছিল এবং এর চারপাশে টিস্যু ইতোমধ্যেই বেড়ে উঠেছিল। আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হয়েছিল কারণ যদি এটি বের করার সময় ফুসফুসে আঘাত লাগতো তাহলে রক্তপাত হতে পারতো ও এর থেকে একটি বিপর্যয় ঘটতে পারতো।”

কিন্তু ৩০ মিনিট চেষ্টা করার পর তিনি ফাইবারোপটিক ব্রঙ্কোস্কোপ দিয়ে বর্ষার ফুসফুস থেকে পিনটি বের করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্ষাকে চার দিন হাসপাতালে থাকার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

বর্ষার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি ডা. জাশ নিশ্চিত করেছেন। নাকের পিন পরা আবার শুরু করেছেন কিনা জিজ্ঞেস করায় বর্ষা হেসে উত্তর দেন, “কোন সুযোগ নেই। আমি কখনোই ভাবিনি যে এরকম কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু তাই হয়েছে। আমি আর ঝুঁকি নেব না।”

সূত্র: বিবিসি

আজকের সারাদেশ/জেএম