ভোর ৫:১০, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তীব্র তাপদাহ-লোডশেডিংয়ে চার্জার ফ্যান-আইপিএসের চাহিদা তুঙ্গে, বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

দুই সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপদাহে নাবিশ্বাস জনজীবন। এরমধ্যে বিদ্যুতের চাহিদার সঙ্গে লোডশেডিংয়ে বেড়েছে। ফলে স্বস্তি খুঁজতে চার্জার ফ্যানে ঝুঁকছেন মানুষ। আর যাদের একটু সামর্থ্য আছে তারা গরম-লোডশেডিং থেকে বাঁচতে আইপিএস (ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই) কিনছেন। এমন পরিস্থিতিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত একমাসে ইলেকট্রিক পণ্যের বাজারে আকার ও মানভেদে প্রতিটি চার্জার ফ্যানে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা, আইপিএসের দাম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা, আইপিএস ব্যাটারিতেও দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দাম বেড়েছে।

চট্টগ্রামের ইলেকট্রিক পণ্যের প্রসিদ্ধ মার্কেট রাইফেলস ক্লাব, শাহ আমানত মার্কেট ও রিয়াজুদ্দিন বাজারের সিডিএ মার্কেটে ফ্যান, চার্জার ফ্যান, আইপিএস, আইপিএসের ব্যাটারির জন্য ক্রেতা আসতেছন। বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতিটি চার্জার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন চার হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চে ১০ হাজার টাকায়। আর ব্যাটারির সক্ষমতা বিবেচনায় একেকটি আইপিএসের দাম ২০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন, “নগরীর চকবাজারে মেসে থাকি। বর্তমানে প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে। গরমে টেকা যাচ্ছে না। এজন্য চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি। তিন মাস আগে আমার বান্ধবী যে ফ্যান চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় কিনেছিল, তা এখন ৬,০০০ টাকা।”

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১,০০০–১,১০০ মেগাওয়াটের মতো। ফলে ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে প্রায় প্রতিদিন।

রাইফেলস ক্লাব মার্কেটের ডালাস ইলেকট্রিক-এর স্বত্বাধিকারী ওবায়দুল হক বলেন, “গত দুই সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় দিনে ৭০–৮০টি চার্জার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে। গত মাসে এ বিক্রি ছিল দিনে সর্বোচ্চ ২০–৩০টি। চার্জার ফ্যানের পাশাপাশি আইপিএসের ব্যবসাও ভালো হচ্ছে, দিনে ১৫–২০টি আইপিএস বিক্রি হচ্ছে।”

দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক মাসে প্রতিটি চার্জার ফ্যানের দাম বেড়েছে ১,০০০–২০০০ টাকা। বাজারে এখন ১২ ইঞ্চি মাপের একটি চার্জার ফ্যানের দাম সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

চাহিদার কারণে ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানের পাশাপাশি অন্যান্য দোকানেও এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট বা মাঝারি আকারের চার্জার ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। বাজারে ১৪, ১৬ ও ১৮ ইঞ্চির চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেশি। চার্জার ফ্যানের মতো বাজারে আইপিএসেরও নানা ধরন বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা বেশি মাঝারি মানের ৮০০ থেকে ১,২০০ ওয়াটের আইপিএসের। এসব আইপিএসের দাম ব্র্যান্ডভেদে ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, যা গত মাসের দামের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি।

বোয়ালখালী বাসিন্দা মিলন বাবু আইপিএস কিনতে এসেছিলেন রাইফেলস ক্লাবে। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা চাহিদাকে পুঁজি করে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। এক বছর আগে যে আইপিএস ৩৫ হাজার টাকা ছিল। তা আজ এসে দেখি সাড়ে ৪০ হাজার টাকা।”

রিয়াজুদ্দিন বাজারের সিডিএ মার্কেটের ইলেকট্রিক পণ্যবিক্রেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, দুই বছর আগেও আইপিএসের এত চাহিদা ছিল না। বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। মূলত চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি কমে যাওয়া এবং পাইকারি বিক্রেতারা দাম বাড়ানোয় বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে লুমিনাস, রহিমআফরোজ, এক্সট্রিম ব্র্যান্ডের আইপিএসের চাহিদা বেশি।

এদিকে আমদানি করা আইপিএসের পাশাপাশি চাহিদা বেড়েছে স্থানীয়ভাবে বানানো আইপিএসেরও। অনেকে মেকানিকের দোকানে আসছেন নষ্ট চার্জার ফ্যান ও আইপিএস সারিয়ে নিতে। এ সুযোগে বেড়েছে চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের ব্যাটারির দাম।

বাজারে চার্জার ফ্যানের ৬ ভোল্টের ব্যাটারি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ১০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এসব ব্যাটারি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যেত।

এদিকে বাড়তি চাহিদার সুযোগে ইলেকট্রিক পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার রাইফেলস ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর। অভিযানে রিচার্জেবল ফ্যান ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচারে দামে অসামঞ্জস্য ও বেশি দামে ফ্যান বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘বাড়তি চাহিদার সুযোগে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানগুলো। অভিযানে বাড়তিমূল্যে পণ্য বিক্রি প্রমাণিত হওয়ায় ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০, ২০ ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’

আজকের সারাদেশ/জেএম