রাত ১:১৮, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কলেজ শেষে আর কোনোদিন বাড়ি ফিরবেন না ফাতেমা

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ফাতেমা তুজ জোহরা (১৮)। কর্ণফুলী নদীতে ফেরি পার হয়ে কিছুদূ্র গেলেই কলেজ। কিন্তু সেই ফেরিতে ওঠার সময়েই কিনা প্রাণ দিতে হলো তাঁকে। একটু আগে সুস্থ শরীরে যে মেয়েটা ঘর থেকে বেরিয়েছিল সেই মেয়েটার নিথর দেহ গেল এখন মা-বাবার কাছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কর্ণফুলী নদীর বোয়ালখালী প্রান্তে ফেরির প্রবেশমুখের বেইলি ব্রিজে দুর্ঘটনায় পড়েন ফাতেমা তুজ জোহরা। সেখানেই সব শেষ। পরে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন, আগেই মারা গেছে ফাতেমা।নগরীর হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নদীর কালুরঘাট পশ্চিম প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা ফেরি থেকে পাড়ে ওঠার সময় বেইলি ব্রিজে একটি সিএনজিচালিত টেম্পো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত পেছনের দিকে নেমে আসে। এসময় ফেরিতে উঠার জন্য ফাতেমা বেইলি ব্রিজ পার হচ্ছিল। পেছন দিক থেকে টেম্পোটি বেইলি ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ফাতেমাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটা ছবিতে দেখা যায় রেলিংয়ে আটকে আছে ফাতেমার নিথর দেহ। নিচে নদীর তীরে তাঁর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছহাব উদ্দিন ফাতেমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, টেম্পোটি আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফাতেমার বাড়ি বোয়ালখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কধুরখীলের হানিফার বাড়িতে। তিনি ওই এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। আচমকা দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারিয়ে মা-বাবা ও স্বজেনরা হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ।

আজকের সারাদেশ/জেএম