ভোর ৫:৩৩, সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজাপন্থী বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও ছত্রভঙ্গ করতে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনিপন্থী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালিয়েছে শত শত পুলিশ কর্মকর্তা। সরাসরি প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, নিউ ইয়র্ক পুলিশ একটি মই বেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন হ্যামিল্টন হলে প্রবেশ করছে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিচ্ছে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার সকালে হ্যামিল্টন হল দখল করেছিল। ফেব্রুয়ারিতে গাজায় নিহত ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের স্মরণে তারা ভবনটির নতুন নামকরণ করেছিল ‘হিন্দস হল’। বিক্ষোভকারীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন থেকে সরে না আসায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

পরবর্তীতে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর হাত প্লাস্টিকের জিপ টাই দিয়ে বেঁধে ক্যাম্পাসের গেটের বাইরে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয়। সংবাদ মাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, হ্যামিলটন হল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বলেছে, হলটি “দখল, ভাঙচুর এবং অবরোধ করার পরে আমাদের আর কোন বিকল্প ছিল না।”

আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংগঠন ‘কলাম্বিয়া স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেসটাইন’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা দাঙ্গার সময় ব্যবহৃত পোশাক পরে একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে হ্যামিলটন হল অবরোধ করেছিল।

মঙ্গলবার হ্যামিল্টন হল দখল করার পর কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী ভবনটির প্রবেশপথে ব্যারিকেড দেয়। আল জাজিরার সাথে কথা বলা একজন ছাত্র সংগঠক বলেছেন, ভবন দখলকারীরা ক্যাম্পাসে যারা অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছে তাদের থেকে আলাদা।

নিউইয়র্ক শহরের মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং পুলিশ কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে হ্যামিল্টন হলের দখল নেওয়া শুরু করেছিল ‘বহিরাগত আন্দোলনকারীরা’। তাদের সাথে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা আইন অমান্য করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পরিচিত ছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যে পুলিশকে শেষ ভরসা হিসেবে ক্যাম্পাসে যেতে বলা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান (১৫ মে আয়োজিত হবে) শেষ হওয়ার পরে ১৭ মে পর্যন্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে।

বিক্ষোভকারীরা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিনিয়োগ বিক্রি বন্ধ করার জন্য, ইসরায়েলের সাথে আর্থিক সম্পর্কের বিষয়ে স্বচ্ছ হওয়ার জন্য এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ পরবর্তীতে জানিয়েছে, হ্যামিল্টন হল থেকে বিক্ষোভকারীদের সড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং এত কারো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আপার ম্যানহাটনের আইভি লীগ স্কুলে একটি তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে সেটি এখন পশ্চিমে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্বে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। টেক্সাস, উটাহ, ভার্জিনিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, নিউ মেক্সিকো, কানেকটিকাট, লুইসিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউ জার্সি সহ বিভিন্ন রাজ্যের অনেক ক্যাম্পাসে গত দুই সপ্তাহে ১ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে আন্দোলন চললেও কর্তৃপক্ষ ভিন্ন উপায় অবলম্বন করেছে এবং আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যেতে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। কিন্তু “জোর করে ভবন দখল করা শান্তিপূর্ণ নয়, এটা ভুল।”

সূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি

আজকের সারাদেশ/জেএম