রাত ১:২৪, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৩ শিক্ষকের ১৪ শিক্ষার্থী, ৯ জন প্রথমবার ফেল, ৫ জন দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ফেল

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

গাইবান্ধার একটি এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৪ এর এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত ৯ শিক্ষার্থীসহ ১৪ শিক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি। অথচ বিদ্যালয়টিতে ওই ১৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৬ জন। তার মধ্যে শিক্ষকের সংখ্যাই ১৩ জন।

ফেল করা ওই ১৪ জনের সকলেই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯ জন নিয়মিত এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন ৫ জন, অর্থাৎ গত বছরের অকৃতকার্য পাঁচ পরীক্ষার্থীও এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। অনিয়মিত ওই পাঁচ শিক্ষার্থী ছাড়া এ বছরের ৯ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে ছিলেন ১৩ শিক্ষক। তবুও পাস করেনি কেউই। আর নিয়মিত ওই ৯ শিক্ষার্থীর ছয় জনই ফেল করেছেন গণিত বিষয়ে।

বিদ্যালয়টির এমন নেতিবাচক হতাশ করা ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বের পাশাপাশি যোগ্যতা নিয়েও। ১৪ শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে না পারা ওই বিদ্যালয়ের নাম ‘ঘগোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। প্রতিষ্ঠানটি জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।

সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঘগোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সাল হতে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পর বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৩ শিক্ষকের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা ৪।

স্থানীয়রা বলছেন, ১৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক ১৩ জন। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় একজন শিক্ষক বলা যায়। আর এ বছরের (চলতি পরীক্ষার) নিয়মিত ৯ জন শিক্ষার্থী ধরলে একজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় দেড়জন করে শিক্ষক বলা যায়। তারপরেও একজনও পাস করতে না পারার জন্য কেবল ওই সব শিক্ষার্থী দায়ী নয়, এর জন্য দায়ী শিক্ষকরা। এমন ফলাফলে শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কম হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন স্থানীয় বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিদিন খোলা থাকে ঠিকই। শিক্ষকদের মধ্যে যারা নিয়মিত আসেন, তারা কেবল বেতন নেওয়ার জন্য আসেন, পড়াতে আসেন না। বিদ্যালয়ে এসে নানান তালের, নানা গল্পে তারা ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু তারা যে জন্য বেতন পান, সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে অবশ্যই বাচ্চারা পাস করতো। এমপিওভুক্ত একটা বিদ্যালয়ে কী করে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয় বিষয়টি তদন্ত প্রয়োজন।

সকল পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া প্রশ্নে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। কোনো বছরই ফলাফলে এমন বিপর্যয় হয়নি। হ্যাঁ, ফলাফল খারাপ ছিল, তাই বলে এরকম নয়। এবছরের ১৪ শিক্ষার্থীর অন্তত পাঁচ থেকে সাত জন পাস করার শতভাগ যোগ্যতা রাখে। কেন তাদের রেজাল্ট ফেল আসল? আমরা বুঝতে পারছি না। তবে, ধারণা করা হচ্ছে উত্তরপত্র মূল্যায়নে যেকোনো ধরনের ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে।’ আমরা ফলাফল বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে চ্যালেঞ্জ করব, বলেন তিনি।

তিনি জানান, ফলাফল প্রকাশের পর ইতোমধ্যে ১৪ শিক্ষার্থীর ১২ জন আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। তাদের ফলাফল মূল্যায়নে তারা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করবে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন, যেকোনো বিদ্যালয়ই পরীক্ষার ফলাফলে শতকরা শূন্যের হারের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই বিদ্যালয়ের এ বছরের ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জনই অকৃতকার্যের হওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা ফেল করা বিষয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যাদের মধ্যে পাস করে ১৩ জন এবং ফেল করে ৫ জন (যারা এ বছরও পরীক্ষায় অংশ নেয়)। এছাড়া বিদ্যালয়টি হতে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২১ জন। যার মধ্যে কৃতকার্য হয় ১৭ জন। ওই বছরেও অকৃতকার্য হয় ৫ জন শিক্ষার্থী।

আজকের সারাদেশ/টিএইচ/এমএইচ