রাত ১:০২, মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমদানি খাতের শীর্ষে জ্বালানী তেল

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন:

২০২৩ সালে দেশের মোট আমদানির সবচেয়ে অর্থাৎ ১১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে জ্বালানী খাতে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ৬৮,০০০ কোটি টাকা আমদানি করেছে। এটিই একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি আমদানি। গত বছর দেশে মোট আমদানি ব্যয় ৬.২ লাখ কোটি টাকা।

জ্বালানী ছাড়াও ভোগ্যপণ্য আমদানির দিক থেকে সর্বোচ্চ আমদানি ব্যয় পরিশোধ করেছে টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও সিটি গ্রুপ। এছাড়া, কয়লা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাঁচামাল আমদানি করে শীর্ষ ১০ এর তালিকায় সর্বনিম্নে রয়েছে মাতারবাড়িতে অবস্থিত কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানির এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে প্রায় ৯১,০০০ কোটি টাকার পণ্য।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্তত ২১৫টি দেশ থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে ৯টি দেশ— চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকে।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম ২০ হাজার ৯৩২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ২০ হাজার ১৪০.৬৩ কোটি টাকা মূল্যের ৩২ লাখ ২২ হাজার ৫২৩ মেট্রিক টন পণ্য, ইস্টার্ন রিফাইনারি ১৪ হাজার ১৬৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পণ্য, যমুনা অয়েল কোম্পানি ১২ হাজার ৫৫৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ২০ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানি করে।

দেশের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক টিকে গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান—শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ ৫ হাজার ৭৪২ কোটি টাকার ৫ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন পণ্য এবং সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড ৩ হাজার ৫০৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে।
অর্থাৎ শিল্পগ্রুপটির ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯,২৪৮ কোটি টাকা মূল্যের ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৮ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করেছে।

সিটি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড ৩ হাজার ৩৭২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য এবং সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে। মোট ৬,৭০২ কোটি ৮১ লাখ টাকার ৯ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করেছে।

মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড ৪ হাজার ৮৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ৩ হাজার ৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে।

আমদানিকারকরা জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত পুরোটাই আমদানি নির্ভর। শিল্পায়নের ফলে বাড়ছে বিদ্যুৎ চাহিদা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। ফলে প্রতিবছরই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। ডলার সংকটে ২০২২ সালের দিকে অন্যান্য খাতের মতো জ্বালানি খাতেও আমদানি কমেছিল। তবে আমদানি এখন স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরতে শুরু করছে।

মেঘনা গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, “আমদানি চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে আমদানির পরিমাণও। করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য মন্দাসহ নানান সংকটে গত দুই-তিন বছর ধরে আমদানি তেমন বাড়েনি। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে ভোগ্যপণ্যের আমদানি আগের তুলনায় বাড়বে।”

ভোগ্যপণ্য খাতের আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভোগ্য পণ্যের বেশিরভাগই আমদানি নির্ভর। এরমধ্যে ভোজ্য তেল এবং চিনিও প্রায় শতভাগ আমদানি করতে হয়। এসব কারণে ভোজ্যতেল এবং চিনি বিশেষ করে— র’ সুগার আমদানি করছে কয়েকটি শিল্প গ্রুপ।

বর্তমানে দেশে র’ সুগার আমদানি করে এমন প্রতিষ্ঠাগুলো হচ্ছে— মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, আব্দুল মোনেম এবং দেশবন্ধু। এসব প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেলও আমদানি করে। এর পাশাপাশি টিকে গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত। র’ সুগার আমদানি খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় চিনি শিল্পকে উৎসাহিত করতে র’ সুগার আমদানিতে শুল্কারোপ করে সরকার। কিন্তু এরপরও দেশীয় চিনি শিল্প এগোতে পারেনি। প্রতিবছরই দেশীয় চিনির উৎপাদন কমতে থাকে।

চিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “বর্তমানে দেশীয় কারখানাগুলোতে বার্ষিক চিনির উৎপাদন ৫০ হাজার টনের নিচে চলে এসেছে। এর ফলে চাহিদার প্রায় শতভাগ চিনি এখন আমদানি করে মেটাতে হয়।”

আজকের সারাদেশ/জেএম