সকাল ৬:৫০, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অধ্যাপককে লাথি-ঘুষি, সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন

সংগঠনের শৃঙ্খলা, মর্যাদা পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাফাতুন নুর চৌধুরীকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

শুক্রবার (১৭ মে) কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সংগঠনের শৃঙ্খলা মর্যাদা পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাফাতুন নুর চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজে একজন সহযোগী অধ্যাপককে মারধর করার অভিযোগ উঠে এই ছাত্রলীগ নেতার। বাকবিতন্ডার জেরে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. কে এম আতিকুর রহমানকে কিল-ঘুষি-লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠে সাফাতুন নুরের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সকালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষে ফরম পূরণের কাজ করছিলেন ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কে এম আতিকুর রহমান। ঠিক ওই সময়ে সেমিনার কক্ষে উপস্থিত হন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ধারী ছাত্রলীগ নেতা সাফাতুন নুর। এ সময় সেমিনার কক্ষে থাকা একটি নষ্ট ফ্যান দেখিয়ে ঠিক করানোর কথা বলেন। ড. কে এম আতিকুর রহমান ফ্যানটি নতুন করে লাগানো হবে বলে জবাব দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জানালার পর্দার পাইপ খুলে ফ্যানে আঘাত করলে অফিস সহায়ক প্রযুক্ত পালের মাথায় সজোরে লাগে। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে অধ্যক্ষের কক্ষে নেন উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা।

তাঁদের পিছু পিছু ঝড়ের বেগে ছুটে আসেন ছাত্রলীগ নেতা সাফাতুন নুর। সেখানে উপাধ্যক্ষ ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল খালেকসহ অন্যান্য সব শিক্ষকরা উপস্থিত হন। তাঁদের সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই ছাত্রলীগ নেতা। একপর্যায়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই ড. কে এম আতিকুর রহমানকে অশ্রাব্য গালিগালাজসহ কিলঘুষি মারতে থাকেন। এতে তিনি আহত হন। এরইমধ্যে আহত সেমিনার সহকারী প্রযুক্ত পালকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের একটি টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।