সকাল ৮:৪৩, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২৬ মে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, ব্যাপক বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন

তীব্র দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি যেন আশির্বাদ হয়ে ধরা দিলো মানুষের কাছে। কিন্তু এই স্বস্তির মধ্যে মন খারাপের সংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আসন্ন সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’র প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেলায় বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ২৬ মে দুপুর ১২টার পর থেকে ২৭ মে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান আবহাওয়াবিদরা।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ‘আমেরিকান ও ইউরোপীয়ান আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল বিশ্লেষণ করে আশঙ্কা করা হচ্ছে— ঘূর্ণিঝড় রেমাল মে মাসের ২১ ও ২২ তারিখের মধ্যে লঘু চাপের শক্তি অর্জন করতে পারে। মে মাসের ২২ ও ২৩ তারিখের মধ্যে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের শক্তি অর্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মে মাসের ২৪ তারিখে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি অর্জন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল যদি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূলে আঘাত করে, তবে স্থল ভাগে আঘাতের সম্ভাব্য সময় হবে ২৫ মে সন্ধ্যার পর থেকে ২৬ মে সন্ধ্যার মধ্যে। পক্ষান্তরে, ঘূর্ণিঝড়টি যদি বাংলাদেশের বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী স্থানের উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করে, তবে সম্ভব্য সময় হবে ২৬ মে দুপুর ১২টার পর থেকে ২৭ মে সন্ধ্যার মধ্যে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বাংলাদেশে উপরে বৃষ্টিপাত শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে ২৪ মে থেকে, যা ২৮ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের উপর মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ২৫, ২৬ ও ২৭ মে। অপেক্ষাকৃত হালকা পরিমাণে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে মে মাসের ২৪ ও ২৮ তারিখে। মে মাসের ২৩ তারিখ থেকেই সমুদ্র উত্তাল শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান পলাশ।

এদিকে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।

ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিএমডির আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের পাশাপাশি বিভাগগুলোর বিভিন্ন জায়গায় শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, বর্তমানে একটি মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর ও ফেনী জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এবং তা শীঘ্রই কমে আসতে পারে।

সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য পূর্বাভাস: মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, “মে মাসের ২২ তারিখ থেকে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেরা যেন অবশ্যই মে মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে উপকূলে ফেরত চলে আসেন।”

মে মাসের ২৪ তারিখ থেকে সমুদ্রে অবস্থান করা কোনোভাবেই নিরাপদ হবে না বলে জানান তিনি।

মে মাসের ২৪ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত সমুদ্র খুবই ভয়ংকর অবস্থায় থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র ট্রলার ডুবে প্রাণহানী এড়াতে মে মাসের ২০ তারিখের পর থেকে নতুন করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ায় বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন এই আবহাওয়াবিদ।

কৃষকদের জন্য পরামর্শ: মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের বেশিভাগ জেলার ওপরে বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে; মে মাসের ২৪ তারিখ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে এ বৃষ্টিপাত ঘটবে।

ফলে বাংলাদেশের কৃষকদেরকে বিষোয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

জমিতে পাকা ধান থাকলে তা কেটে মড়াই করানোর এবং শাক-সবজির জমিতে যেন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জামা হওয়া বৃষ্টির পানি শস্যের ক্ষতি না করে সেদিকেও খেয়াল রাখার বিষোয়টি উল্লেখ করেন পলাশ।

লবণ চাষীদের জন্য পরামর্শ: চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় আগামী ২৪ মে থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে ২৮ মে পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মাঠে থাকা লবণ মে মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে তুলে ফেলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মোস্তাফা কামাল পলাশ।

মে মাসের ২৪ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত টেকনাফ-টু-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের ২৪ তারিখের পূর্বে দ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।